Logo
শিরেোনাম ::
সেশনজট নিরসনে শিক্ষার্থীদের সাথে বশেমুরবিপ্রবি’র ভিসির আলোচনা সভা ডুয়েট-বিসিএসআইআর’র মধ্যে গবেষণা চুক্তি স্বাক্ষরিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে পবিপ্রবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত প্রবাসী ছোট ভাই কে না পেয়ে বড় ভাই কে মারধর ও হত্যার হুমকি তানোরে লক্ষিত সুফলভোগী মানুষের মাঝে ৫৮ টি বকনা গরু বিতরণ কোছাক কতৃক সাহিত্য প্রকাশনা “স্বপ্ন” ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন উদ্বোধন করেন এড. মাহফুজুর রহমান ডুয়েট সিএসই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নং ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির মৃত্যু প্রবাসীর স্ত্রীকে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর প্রাননাশের হুমকি কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাসের বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

“গবেষক হতে চাই” এর প্রথম ক্যাম্পাস রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর মিটিং অনুষ্ঠিত

রিপোর্টারের নাম / ৪৯৭ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে গবেষণা শেখার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম “গবেষক হতে চাই :: Be Researcher BD”। প্রথমবারের মত নিয়োগ পাওয়া ক্যাম্পাস রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর এবং রিসার্চ কো-অ্যাম্বাসেডরদের নিয়ে গত ০৭ মার্চ, রবিবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য অরিয়েন্টেশন শুরু হয়।

অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বক্তারা গবেষণার আগ্রহ আছে এমন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪ জন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন গবেষণার সংকটময় পথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার৷ সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী জনাব জিল্লুর রহমান। “গবেষক হতে চাই” এর সার্বিক প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, এবং কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রভাষক জনাব রুবেল আহম্মেদ। তিনি প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞা উল্লেখ করে বলেন, “এখানে স্কুল কিংবা কলেজের মত নির্দিষ্ট সিলেবাসের সীমাবদ্ধতা থাকে না। বরং এখানে জ্ঞান তৈরী হয়, এটি হচ্ছে জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র এবং এ কারণেই গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশী। কেননা গবেষণার মাধ্যমেই এই অভীষ্ট লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।” পরবর্তীতে অল্প কথায় গ্রুপের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্য থেকে প্রথম আলোচনা নিয়ে আসেন মালেশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস এন্ড এনার্জি টেকনোলজি এর প্রধান ড. সাইদুর রহমান। গবেষণা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম এবং কর্মস্পৃহা তাঁকে এনে দিয়েছে তার ফিল্ডের টপ ০১% গবেষকদের মাঝে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সম্মান। তিনি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ ছাবির হোসাইন এবং মডারেটরবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে উদ্যোগটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। অতঃপর তিনি নতুন নির্বাচিত রিসার্চ অ্যাম্বাসেডরদেরকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমেই তোমরা আজকে এখানে এসেছ। এতে বুঝা যায় তোমরা সত্যিই ইচ্ছুক।” বলাবাহুল্য যে নিয়োগ প্রক্রিয়া দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথমত, এমসিকিউ পরীক্ষা এবং দ্বিতীয়ত, ভাইবা। তিনি আরো বলেন, “গবেষণার ক্ষেত্রে লাইফ লং লার্ণিং গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ জীবনভর শিক্ষা বা শেখা না থামানো।” এছাড়াও বিভিন্ন স্কিল শেখার গুরুত্ব নিয়ে সবাইকে দারুণ মোটিভেট করেন। তিনি তার গবেষণা জীবনের বিভিন্ন দিকে আলোকপাত করে বলেন, “গবেষণায় যার যত কোলাবোরেশান প্রকল্প থাকবে সে তত এগিয়ে যেতে পারবে”।সেই সাথে কাজে অন্তরিকতা,সর্বক্ষেত্রে কোয়ালিটি এবং পরিশ্রমকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতির কথাও বলেন।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফয়সাল ইসলাম চৌধুরী তার গবেষণা জীবনের নানা রকমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গবেষণা নিয়ে তার উদ্দীপনা এবং আবেগ প্রকাশার্থে তিনি বলেন, “কোটি টাকার চেয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ আমাকে অনেক বেশী আনন্দ দেয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের সাধারণ কিন্তু বড় ধরণের কিছু সমস্যার কথা অভিজ্ঞতার আলোকে বর্ণনা করেন এবং সেসব নিয়ে অভিজ্ঞতালব্ধ সমাধানও দেন। বর্ষভিত্তিক কিভাবে গবেষণার ফিল্ডে আগাতে হবে সে সম্পর্কেও সবাইকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। বাইরে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে গবেষণার গুরুত্ব, গবেষণার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার শেখার গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেন। সেখান থেকে উপস্থিত সবাই কিছু দূর্দান্ত পরামর্শ পায়। আলোচনার মাঝেই ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র‍্যের কথা উল্লেখ করে বলেন “গবেষণা হল অবসরবিহীন চাকরি যা কেউ চাইলে জীবনের শেষ সীমা পর্যন্ত করতে পারেন।” সর্বোপরি তিনি গবেষণা ফিল্ডে সুযোগ এবং তা থেকে প্রাপ্ত সন্তুষ্টির কথা বেশ জোর দিয়ে আলোচনা করেন।

“গবেষক হতে চাই” এর মডারেটর এবং গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক মোঃ রাশিদুল ইসলাম রিসার্চ অ্যাম্বাসেডরদের দায়িত্ব, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলেন এবং অচিরেই তারা সুখবর পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি গ্রুপ তৈরির পিছনের কাহিনী নিয়ে ছোট করে জানান দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। প্রথমত তিনি অ্যাম্বাসেডরদের জন্য নেওয়া উদ্যোগে থাকা কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা বর্ণনা করেন। অতঃপর অ্যাম্বাসেডরদের দায়িত্ব নিয়ে ধারণা দেন এবং কাজগুলো কিভাবে করতে হবে সে সম্পর্কেও বিস্তারিত বলেন।

দুইজন নবনির্বাচিত রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর থেকে তাদের অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের থেকে সংগঠন নিয়ে তাদের লক্ষ্য জানতে চাওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে থেকে রোকনুজ্জামান রোকন, চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত; তিনি বলেন, “গত দুই বছর থেকেই আমি গবেষণাতে আগ্রহী। সেজন্য ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে গ্রুপটির সন্ধান পাই। গবেষণার বিস্তৃত জগত দেখে বুঝতে পারি একজন মেন্টর ছাড়া এই পথ পাড়ি দেওয়া মুশকিল। সেজন্য এই গ্রুপের কাছে কৃতজ্ঞ।” জিয়াংসু নরমাল ইউনিভার্সিটি, চীন এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ওমর ফারুক বলেন, “বর্তমানে আমি থিসিস করছি এবং সেখানে এই গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন লেসন, লেকচারগুলো আমাকে দারুণ উপকৃত করেছে। বিশেষ করে লিটারেচার রিভিউ, সফটওয়্যার সংক্রান্ত লেকচারগুলো বেশী কাজে লেগেছে। আশা করছি আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারব। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।” সর্বোপরি তারা এই কার্যক্রমে উৎফুল্ল এবং উৎসাহিত হয়েছেন। এককথায় একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সর্বশেষ বক্তব্য রাখেন “গবেষক হতে চাই” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ফেসবুক গ্রুপের এডমিন, চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ছাবির হোসাইন। তিনি সবাইকে স্বাগত ও শুভকামনা জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। তিনি তুলে ধরেছেন গবেষণা জীবনের নানা দিক, গবেষকদের জীবনব্যবস্থায় নানা বিষয়ের প্রভাব এবং নানা স্কিলের সঙ্গে মিল রেখে উন্নত গবেষণা জীবনের সুযোগ-সুবিধার কথা। তিনি আমাদের দেশের গবেষণা পরিবেশের ভঙ্গুর অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করেন। জ্ঞানভিত্তিক, গবেষণাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে তার স্বপ্ন এবং কার্যক্রমের কথা উল্লেখ্য করেন। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়েও বিশ্বমানের গবেষণা করা যায় তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি তার আন্ডারগ্রাজুয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বারা ১০ এর অধিক প্রকাশনা সফলভাবে করে দেখিয়েছেন। গবেষক হওয়ার জন্য কোনো ডিগ্রী কিংবা সার্টিফিকেট মৌলিক কিছু নয় বরং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, ইচ্ছা, আগ্রহ এবং কর্মস্পৃহা থাকাটাই মূখ্য বলে বক্তব্য দেন। এছাড়াও গ্রুপটিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে তার সংগ্রাম, সাফল্য সহ বিভিন্ন দিকে আলোকপাত করেন। তার কাজ করার বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যাবলীর মোকাবেলা, অনেকের থেকে পাওয়া মোটিভেশন নিয়ে আলোচনা সবাইকে গবেষণায় উদ্দ্যমী হতে প্রেরণা দিয়েছেন।

রিসার্চ অ্যাম্বাসেডরদের দায়িত্ব নিয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করেন। দায়িত্ব পালনের অবহেলা থেকেও সবাইকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দেন। কেউ যেন এই দায়িত্বকে নামসর্বস্ব হিসেবে না নেয় সেজন্য আবারো সতর্ক করেন। সর্বোপরি বলেন, “আমাদের কাজ গতানুগতিক অন্যান্য বিভিন্ন অ্যাম্বাসেডরদের মত লাইক, শেয়ার দেওয়া হবে না, বরং আমাদের আইডিয়া তৈরি করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করা।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন শুধু বাংলাদেশেই নয়, একসময় বিশ্বজুড়েই এই “গবেষক হতে চাই” নামটি সবার পরিচিত হবে।

সবশেষে তিনি ভবিষ্যতে আয়োজন হবে এরকম প্রোগ্রাম নিয়ে বলেন, সেগুলোর কিয়দংশ তিনি প্রকাশ করেন। যার মধ্যে অন্যতম হল ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরকে নিয়ে “রিসার্চ আইডিয়া সিরিজ” নামক প্রকল্পের।

সমাপ্তিতে তিনি বলেন, “আমি এই উদ্যোগটিকে আমার সন্তানের মত দেখি। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলি ‘আমার তিনটি সন্তান। সাফফানা, সাফওয়ান ও গবেষক হতে চাই’। মানুষ যেভাবে নিজের সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, সময় দেয় এবং ভালোবাসে আমি এটার পিছনে প্রচুর সময় দেই, ভালোবাসি এবং স্বপ্ন দেখি। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য গবেষণা শেখার উপর “গবেষক হতে চাই লেকচার সিরিজ” রয়েছে। মূলত এটি আমাদের গ্রুপ থেকে আয়োজিত বাংলায় ১ম পূর্নাঙ্গ কোর্স ‘How to Become a Researcher?’ এর রেকর্ডেড ক্লাসসমূহ। অল্প কয়েকদিনে ব্যাপক সারা পেয়েছি, ইচ্ছা করলে আমাদের লেকচারগুলো ফ্রি না রেখে পেইড ভার্সন রাখতে পারতাম। এতে করে আমাদের প্রচুর আর্থিক লাভ হত। কিন্তু আমরা সবার কাছে পৌছানোর জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি রেখেছি। পাশাপাশি মাত্র ছয়মাসে পেজ, চ্যানেল ও গ্রুপ মিলে প্লাটফর্মটিতে প্রায় ১৯ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন যারা গবেষণায় আগ্রহী। আমরা এই কাজগুলোকে সদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে দেখি যাতে দেশের মানুষের উপকারে আসে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন আমরা ব্যপক প্রশংসা, ভালোবাসা ও দোয়া পাচ্ছি।”

প্রচন্ড উদ্দীপনা এবং একবুক স্বপ্নের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
P