Logo
শিরেোনাম ::
প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক ও জলজ জীবনের সবচেয়ে বড় হুমকি কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর বাজারে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা উদ্বোধন কবিতাঃ “একটি স্বচ্ছ হৃদয়” ডুয়েট উপাচার্যের সাথে ‘করিমগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুল’ এর প্রতিনিধিবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘করিমগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুল’ এর পক্ষ থেকে ডুয়েট উপাচার্যকে মাস্ক উপহার কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে আন্তঃজেলা গ্রিলকাটা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার । মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিতকারীরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী-বীর মুক্তিযোদ্ধা সামশুদ্দীন আহমদ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ভলেন্টিয়ার সার্ভিস ক্লাব ক্লাস-পরীক্ষার দাবিতে সিলেট টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা রনি হকের জন্মদিন পালিত

আজ ফারাক্কা দিবস, পদ্মা শুকিয়ে ধুধু বালু চর

বাপ্পী রহমান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : / ১০৪ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

বাপ্পী রহমান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ

আজ ১৬ মে। ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ দিবস। গঙ্গায় ফারাক্কা বাধ তৈরি করে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। সারাদেশ থেকে অগণিত মানুষ রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে এসে জমায়েত হয়। সেখান থেকে শুরু হয় লংমার্চ। ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে ওঠে। দেশবাসী দাবি তোলে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের অন্যায় আচরণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপনের।” মৃত্যুর মাত্র ৬ মাস পূর্বে ৯৬ বছর বয়সে অসুস্থ শরীর নিয়ে মওলানা ভাসানী ওই লংমার্চ করেছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ফারাক্কা দিবসে আলোচনা-সেমিনারের আয়োজন করে থাকে।

এক সময়কার ভরা যৌবনা পদ্মা শুকিয়ে এখন ধুধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার নেই আগের মত জৌলুস। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই নাব্যতা হারিয়েছে খর্রাস্রোতা পদ্মা। পানি কমায় বাড়ছে চরের বিস্তৃতি। বর্ষা যাওয়ার পর রাজশাহীর পদ্মার বুকে জেগে উঠেছে বিশাল চর। শুধু রাজশাহী এলাকায় নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্ট থেকে ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত দুশো মাইলজুড়ে পদ্মা এখন মরুময় ধুধু বালুচর। পদ্মার সাথে রাজশাহী অঞ্চলের খাল বিল শুকিয়ে গেছে। শুকিয়ে গেছে পদ্মার শাখা, উপশাখা নদীগুলোও। এছাড়াও বারনই নদীসহ বেশ কিছু ছোট নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। রাজশাহী নগরী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে সরে গেছে পদ্মার পানি। বর্তমান পদ্মায় পানি থাকলেও কোনো স্রোত নেই। অন্য বছরের চেয়ে এবার অনেক আগেই পদ্মা পানি শূণ্য হয়ে গেছে। এতে রাজশাহীর উপর এর প্রভাব পড়বে এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিবেশ ও নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলছেন এক মাত্র ফারাক্কার কারণে পদ্মার এ দুরাবস্থা।

মূলত পদ্মা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী ও পাবনা দিয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। এ দীর্ঘ পদ্মার চারদিক রয়েছে শাখা প্রশাখা নদ নদী। পদ্মা মরে যাবার সাথে সাথে শাখা প্রশাখা নদ নদী শুকিয়ে গেছে। বিশেষ করে পদ্মার প্রভাবে বড়াল, মরা বড়াল, মুছাখান, ইছামতি, ধলাই, হুড়া সাগর, চিকনাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, নবগঙ্গা, চিত্রা, বেতা কালিকুমার, হরিহর, কালিগঙ্গা, কাজল, হিসনা, সাগরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ, বেলাবতসহ পঁচিশটি নদ-নদীর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন। এসব নদীর সাথে সংযুক্ত এ অঞ্চলের বিখ্যাত কিছু খাল বিল রয়েছে। এরমধ্যে যেমন চলনবিল। চলন বিল রাজশাহী বিভাগের সর্বোচ্চ বিস্তৃত বিল হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে বিল হালতি, হিলনা, মহানগর, বিলভাতিয়া, উথরাইল, খিবির বিল, চাতরা, মান্দার বিল, বিলকুমলী, পাতি খোলা, অঙ্গরা, চাঙ্গা, দিকমী, পারুল, সতী, মালসী, ছোনী, বাঘনদী, পিয়ারুল, মিরাট, রক্তদহ, কুমারীদহ, খুকসী, জবই বিল, বাঁধ বাড়িয়া গ্রামের বিল। এসব বিল মুলত পদ্মাকে ঘিরেই এর সৌন্দর্য বিরাজ করে। কিন্তু শুষ্ক মওসুমের আগেই পদ্মার পানি শূন্য হয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে এসব খাল বিলে। পদ্মার মতই নাম করা বিলগুলো শুকিয়ে গেছে। চির যৌবনা ছুটে চলা পদ্মা এখন মরা নদীর নাম। দুর দিগন্তে যতদুর চোখ যায় শুধু ধুধু বালুর চর। তবে এবার বৈশাখ আসার আগেই যতটুকু পানি পদ্মায় রয়েছে তা আর দেখা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে মুলত নদীর তলদেশ ভরাট ও ফারাক্কার কারণে পানি শূণ্য হয়ে বালুর উচ্চতা বেড়ে গেছে। বর্ষা মওসুমে মাস তিনেকের জন্য নদীতে পানি থাকলেও সারা বছরজুড়েই তলানিতে থাকে পানি। পদ্মায় শেষ পর্যন্ত যে পানি থাকে কোনো কাজে লাগে না। বেশিরভাগ সময় একেবারে নাগালের বাইরে এ পানি অবস্থান করে। যা দিয়ে সেচের কাজও করতে পারে না কৃষকরা। এছাড়াও পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে জেলেদের একটি বড় অংশ বেকার হয়ে যায়। যারা নদীতে মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করেন তাদের এখনই দুর্দিন শুরু হয়েছে। ইতি মধ্যে অনেকেই পদ্মা নদী থেকে নৌকা জাল গুটিয়ে নিয়েছে। তারা মাছ শিকার না করে নগরীতে দিনমুজুর ও রিক্সা চালানো পেশা বেছে নিচ্ছেন।

পরিবেশবিদ ও নদী বাঁচাও আন্দোলন রাজশাহীর সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই নদী বাঁচাও আন্দোলন করে যাচ্ছি। তবে মুল বিষয়টি হলো ভারত আর্ন্তজাতিক আইন রীতিনীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। এ কারণে পদ্মা থেকে শুরু করে শাখা উপশাখা নদীগুলো শুষ্ক মওসুমের আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের মানুষের উপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com