Logo
শিরেোনাম ::
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন উপলক্ষে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভা মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় বটবৃক্ষের প্রথম ইভেন্ট সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিনকে ইউপি সদস্য সুহেল আহমেদের শুভেচ্ছা শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মানবতার সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছে সাতগাঁও প্রবাসী ফোরাম জাতিসংঘের ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরষ্কার’ অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ডুয়েট উপাচার্যের অভিনন্দন ভোলাগঞ্জ- দয়ার বাজার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ মন্ত্রী ইমরান আহমদ কে এড. মাহফুজুর রহমানের অভিনন্দন সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিনকে যুবনেতা ফরিদ উদ্দিনের শুভেচ্ছা ডুয়েট ছাত্রলীগ এর প্রচার সম্পাদকের চিকিৎসা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চকবাজার ওয়ার্ড উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলেন যারা তানোরে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স প্রদান

বাংলাদেশ ৪টি স্তম্ভ উপর দাঁড়িয়ে আছে- শরীফ জিয়াউল হোসাইন

আজিজ বিন আফসার, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা প্রতিনিধি / ২৩১ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

আমরা এমন একটি সময় বাস করছি যখন আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাকাব্য রচনা করার সুভাগ্য আমাদের হয়েছে। যে বাংলাদেশকে বলা হতো Bottomless basket (তলাবিহীন ঝুড়ি) আজ সে বাংলাদেশকে জননেত্রী শেখ হাসিনা পৌঁছে দিয়েছেন মধ্যমায়ের হাইওয়েতে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা দেশ। বাংলাদেশ এই ৪টি স্তম্ভ উপর দাঁড়িয়ে আছে (যেখানে জড়িয়ে আছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্মান) । এই ৪টি স্তম্ভ বিপক্ষে যারা যাচ্ছে তারা হচ্ছে দেশদ্রোহী। ১৯৭৮ সালের দিকে তাকালে দেখি জিয়াউর রহমান সাংবিধানিক চার মূলনীতিকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা হত্যাকারীদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তাদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব প্রদান করেছিলেন। শুধু তাই নয় সহজিয়া বাংলার সংবিধানকে উপেক্ষা করে তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন ও রাজনীতি করবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এসবই তিনি করেছেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার রক্তাক্ত হাতকে ধর্মের লেবাসে মুছতে, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমাতায় থাকতে। তাদের আচরণগত আপসের কারণে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এখন তাদের শুধু প্রত্যাখ্যান নয় বরং বিবেকহীন হিসেবে মনে করে।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গে, দেশটা যখন স্বাভাবিক গতিতে চলছে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ তৎপরতা নিমূল করা হয়েছে, দুর্নীতিবাজদের নিমূল করা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন ঠিক সেই মুহূর্তে পরিকল্পনামাফিক বাবুনগরী ও মামুনুল হক বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসেন, যাতে মৌলবাদ গোষ্ঠী (রাজপথ উত্তপ্ত করা চেষ্টার মাধ্যমে) তাদের রাজনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। ২০১০ সাল থেকে জুনায়েদ বাবুনগরী বিভিন্ন ইস্যুতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একের পর এক আওয়ামী লীগ বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জামায়াতে ইসলামের সাথে সম্পর্ক এবং সরকারের বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িক কৌশলের আশ্রয় নেওয়ার কারণে হেফাজত প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আহমদ শফির সাথে তার বিরোধ লেগেই ছিলো। সরকার বিরোধী এই ভূমিকার কারণে আল্লামা আহমদ শফির সাথে জুনায়েদ বাবুনগরীর মনোমালিন্য মৃত্যুর আগ মুহুর্তে চরমে পৌঁছায়। ‘শফি হুজুরের ব্যক্তিগত খাদেম হোজাইফা আহমদ বলেন- উগ্রপন্থীদের (বাবুনগরীর অনুসারী) অমানুষিক নির্যাতনে ফলে মৃত্যু হয় আল্লাম আহমদ শফি সাহেবের’। হেফাজত প্রধান আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যুর পর কথিত কাউন্সিলের মাধ্যমে আমীরের দায়িত্ব নেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আর সরকার বিরোধী ভূমিকাকে জোরালো করার জন্য সঙ্গী হিসাবে বেছে নেন ইসলামী দল খেলাফতে মজলিস নেতা মামুনুল হককে। তাই এদের জানিয়ে দিতে চাই আমাদের বাংলাদেশ বানাবে আফগান ভেবে থাকেন যদি ভুল হবে। আমাদের বাংলাদেশ আবার পাকিস্তানে ফিরে যাবে ভাবেন যদি ভুল হবে। জনম দুঃখিনী এক জননীর কোল জুড়ে আছে সতের কোটি সন্তান। কিছু খৃস্টান, কিছু হিন্দু, বৌদ্ধ আর অগণিত মুসলমান। যদি ধর্মের নামে কোন সন্ত্রাসবাদ জাগে এখানে হবে না তার ঠাই। তাই মৌলবাদ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বলতে হয় “হাতি ঘোরা গেল তল মশা বলে কত জল! এরা তো মশারও অধম।”

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে আমরা পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস, গ্রেনেড গণতন্ত্র, মৌলবাদের রাজনীতি দেখেছি। এতে স্পর্শ বোঝা যায় “বিজয়ের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তুু পরাজয়ের ঘ্রাণী চিরস্থায়ী।” আমরা যারা বিজয় হয়েছি আমরা অনেককিছু মনে রাখি নি, কিন্তুু যারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি তারা কোনকিছু ভুলে নাই।
সেই ধারাবাহিকতায় যারা বাংলাদেশকে নিয়ে সড়যন্ত্র করছে আজ তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন ছাত্রলীগ গর্জে ওঠেছিল। তারা উচ্চারণ করেছিল- “অমানুষ তুমি মানুষ পোড়াও, ভেবেছো পুড়িয়ে হবে, আগেও হারেনি, আজও হারবো না আমরা হেরেছি কবে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই নেতা যিনি ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ করে দিয়েছেন। যেখানে প্রায় এক লক্ষ আলেম সমাজ কাজ করছেন। জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা জীবনের ৪ হাজার ৬৮২ দিন কেটেছিল জেলে। বঙ্গবন্ধু রাজনীতির জীবনে কখনও আপোষের পথ বেছে নেন নাই। এবং তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লেখা আছে- যারা আপোষের পথ বেছে নেই তারা ‘কাপুরুষ’, তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না, তারা সুবিধাবাদী।

নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের পথে সমাজ। সমাজের এই নৈতিকতা অবক্ষয়ের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য এগিয়ে আসতে হবে প্রত্যেক পরিবারকে। প্রতিটা সন্তানের প্রথম পাঠশালা হচ্ছে তার ঘর। পরিবার থেকে যদি সন্তানদের সঠিকভাবে নীতি নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আপনার পরিবার থেকে যে সমাজ গঠিত হবে সেটাই হবে নীতি নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একটি আদর্শ সমাজ।

যেভাবে চারদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং বিভাজনের সংস্কৃতি চালু করবার তৎপরতা। তবে এই আচরণকেও রুখে দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে যারা বর্তমানে এবং ভবিষ্যৎতে রাজনীতি করছেন করবেন তাদের বাংলার সংস্কৃতি, সার্বভৌম, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রদীপ্ত প্রত্যয়ের প্রবাদ পুুরুষ, অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মেনেই রাজনীতি করতে হবে এমন পরিবেশ বিনিমার্নের মাধ্যমে। আর এই পুরো বিষয়টি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব তরুণ সমাজ অংশগ্রহণের দ্বারা। এবং ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে চর্চা করতে হবে। অবশেষে যেকোন আধাঁরের বিরুদ্ধে আলোর মিছিল নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে যেকোন দুর্যোগ দুর্বিপাকে ছাত্রলীগই বাংলাদেশকে অভয় দিবে- “লঙ্ঘিত হবে রাত্রি-নিশীথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার।”

এই তরুণ, হে নবীন, এখনই সময় জেগে ওঠার, এই শৃঙ্খল ভাঙ্গার, গড়ে তোলবার আলোকিত মাতৃভূমি।

লেখক: ছাত্রনেতা
শরীফ জিয়াউল হোসাইন
বি.এড. অনার্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com