Logo
শিরেোনাম ::
সিমোশএমসিতে ইন্টার্ন ডক্টরস রিসেপশন সম্পন্ন বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন-২০২২ তানোরে চোলাই মদ ও পলাতক আসামি গ্রেফতার হাজীগঞ্জ শাহরাস্তিতে ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ হোসাইনের শীতবস্ত্র বিতরন বটবৃক্ষের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরন ডুয়েটে অনুষ্ঠিত হলো “শহীদ মোস্তফা এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২১” শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করলেন ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ হোসাইন পটিয়া উপজেলায় বিভিন্ন এতিমখানার ছাত্রদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলমের শীতবস্ত্র বিতরণ শাহজাদপুর প্রিমিয়ার লীগ সিজন-২ শুরু ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছাত্রলীগের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে

অর্থের অভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না আলালের

শেখ আরিয়ান রুবেল, ঢাকা মহানগর উত্তর প্রতিনিধি / ২৯৯ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

ঢাকা মহানগর উত্তর প্রতিনিধিঃ- শিকলে বাঁধা আলালের জীবন আলালের জীবন স্বাভাবিকই ছিল। পেশায় ছিলেন দিনমজুর যা আয়-রোজগার করতেন তা দিয়েই পাঁচজনের জীবন চলত। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বাঁধা পড়েছে তার জীবন।

স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাধ্য হয়েই স্বামীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রেখেছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

আলালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছরের ছেলে আকাশ, ৯ বছরের ছেলে জীবন, তিন বছরের কন্যা মিমকে নিয়ে তাদের পাঁচজনের সংসার ভালোই চলছিল। তার স্বামী পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসা করাতে দ্বারস্থ হন বিভিন্ন কবিরাজের কাছে।

তিনি জানান, করোনা শুরুর আগে ডাক্তার দেখানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তাকে আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে তিনি দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানুষকে দেখলেই তিনি হিংস্র হয়ে উঠেন এবং মারধর করতে উদ্যত হন। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাকে পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম জানান, তিনটি অবুঝ শিশু নিয়ে তার সংসার চালানো এবং অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন শতক ভিটেবাড়ি একমাত্র সম্বল। পরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে এখন কোনো রকমে টিকে আছি। কিন্তু অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই টাকার অভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না।

তিনি জানান, বড় ছেলে আকাশ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেকের কাছেই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। এখন পাঁচজনের সংসার এবং স্বামীর চিকিৎসা করা মনোয়ারার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ সুরমা গ্রামের প্রতিবেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফুয়াদ আলম চৌধুরী জানান, আলাল মিয়া একজন সুস্থ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম লোক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পাগল হয়ে গেছেন। এ কারণে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে দিন দিন তিনি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান জানান, আলালের বিষয়টি খুবই মানবিক। সরকারের কাছে দাবি করছি তার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে আসবে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুন জানান, আলাল একজন মানসিক রোগী। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দিলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
P