Logo
শিরেোনাম ::
গাউছিয়া অটো রাইচ মিল মালিকের পক্ষ থেকে পটিয়া মুন্সেফ বাজারে পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন গরীব,দুস্থ ও জেলেদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় ডুয়েটের ১৯ শিক্ষক বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় পবিপ্রবির ২৩ শিক্ষক তানোর উপজেলা বাসীকে শারদীয় দূর্গা পূজার আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা মঈনুদ্দীন সোনার বাংলা সমাজকল্যাণ সংস্থার নতুন সভাপতি মোঃ আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান শ্রীমঙ্গলে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ভানুর জয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য মা ইলিশ রক্ষার বিকল্প নেই: হোসাইন ডুয়েটে ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী জামাত বিএনপি কর্মী ফয়জুর রহমান

পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে চলছে রোগীর খাবার লুটপাটের মহোৎসব

রিয়াজ কালাম, পেকুয়া উপজেলা প্রতিনিধি / ৯৮ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পেকুয়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ- কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সরকারী হাসপাতাল) দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের খাবার লুটপাটের মহোৎসব চললেও তা বন্ধে কোন ধরনের কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ঠ স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হেয়ছে। পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (বাবুর্চি) নেজামের বিরুদ্ধে রোগীর খাবার নিয়ে বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছেও। পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও’র আস্কারায় ওই বাবুর্চি নেজাম দীর্ঘদিন ধরে রোগীর খাবার বাইরে বিক্রি ও হাসপাতালের কেন্টিনকে খাবার হোটেল বানালেও সংশ্লিষ্ঠ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। খোদ কক্সবাজারের সিভিল সার্জন সরকারী হাসপাতালের এ অনিয়ম বন্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। প্রতি মাসে রোগীদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করে পেকুয়া হাসপাতাল কেন্দ্রীক একটি অসাধু সিন্ডিকেট সরকারী অর্থ লুটপাট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত ৫/৬ বছর ধরে পেকুয়া হাসপাতালের কর্মচারী (বাবুর্চি) নেজাম উদ্দিন হাসপাতালের ক্যান্টিনে বাইরের লোকদের দুপুর ও রাতের বেলায় খাবার বিক্রি করেন। প্রতিবেলা খাবার৪০-৫০টাকা হিসেবে বাইরের লোকজনের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন দুই বেলা খাবার খাওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন পেশার লোকজন দুপুর দুইটার দিকে ও রাতে ৮টার দিকে হাসপাতালের কেন্টিনে যান। রোগীদের জন্য বরাদ্দের খাবারই মূলত বাইরের লোকদের এভাবে বাধাহীনভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার এ প্রতিবেদক পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা: মুজিবুর রহমানকে অবগত করলেও তিনি কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতীতের তুলনায় রোগীদের খাবার লোপাটের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়ে খাবার লুটপাটের মহোৎসবে পরিনিত হয়েছে।

জানা গেছে, পেকুয়া হাসাপাতালের কর্মচারী (বাবুর্চি) নেজাম উদ্দিন ও হাসতালের কতিপয় কর্মকর্তা কর্তৃক পেকুয়া হাসপাতালের ‘কেন্টিনকে খাবার হোটেলে’ রূপান্তর করায় তা বন্ধে গত কয়েক মাস পূর্বে কক্সবাজার সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় সচেতন এলাকাবাসীদের পক্ষে।

অভিযোগ রয়েছে, সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের তিন মাস অতিক্রম হলেও হাসপাতালের কর্মচারী নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার বিক্রি বন্ধ হয়নি।

এছাড়াও হাসপাতালের খাবার সরবরাহে সরকারীভাবে নিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও রোগীদের খাবার সামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের কতিপয় নার্স রোগীদের ডায়েট এন্ট্রির দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে অনিয়ম করে যাচ্ছে।

আজ দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, হাসপাতালের নিচ তলার দক্ষিন পার্শ্বে দুইটি কক্ষ রয়েছে। একটি কক্ষে রোগীদের জন্য খাবার রান্না করা হয়। অপর কক্ষে দেখা গেছে, ডাইনিং টেবিল ও বেশ কয়েকটি চেয়ার। দুপুর ২টার পরেই দেখা মিলল হাসপাতাল থেকে খাবার কিনে খাওয়া পেকুয়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দফতরের সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, ডাক্তার, ও বাইরের অচেনা লোকদের চেহারা! এসময় দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যালয়ের ১০/১৫ জন ও বিভিন্ন প্রতিষ্টানের আরো ১২জনের মতো লোক ডাইনিং টেবিলে খুব মজা করে হাসপাতালের রোগীদের খাবার ঘিলে খাচ্ছেন! এবং টিপিন বক্স নিয়ে খাবার বাইরেও বিক্রি করা হচ্ছে।

পেকুয়া হাসপাতালের কেন্টিনে খাবার খেতে আসা অনেকেই জানান, হাসপাতালের বাবুর্চি নেজামের রান্নার মান খুব ভালো; দামেও সস্তা তাই দুপুর বেলার খাবারটা বাসায় যাওয়ার পরিবর্তে এখান থেকেই কিনে খাওয়া হয়। প্রতিবেলা খাবার খেতে নেজাম উদ্দিনকে কতো টাকা দিতে হয় প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি বেলা খাবার খেতে ৪০- ৫০টাকা করে দেওয়া হয় বাবুর্চি নেজামকে।

হাসপাতালের বাবুর্চি নেজাম উদ্দিনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ক্ষেগে গিয়ে বলেন, ‘আমার হাসপাতালে আমি খাবার বিক্রি করলে আপনাদের জানাতে হবে কেন উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি।

হাসপাতালের কেন্টিনকে খাবার হোটেল ও রোগীর খাবার লুটপাটের এ মহোৎসব দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া হাসপাতালে চলে আসলেও খোদ হাসপাতালের বড় কর্তার এ নিয়ে কোন ধরনের মাথা ব্যথা নেই।

আমরা পেকুয়াবাসী সংগঠনের যুগ্ম মহা সচিব মাহমুদুল করিম জানান, জরুরী ভিত্তিতে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে রোগীর খাবার বাইরের লোকদের বিক্রি বন্ধসহ সকল প্রকার অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com