Logo
শিরেোনাম ::
ডুয়েট ছাত্রলীগ এর প্রচার সম্পাদকের চিকিৎসা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চকবাজার ওয়ার্ড উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলেন যারা তানোরে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স প্রদান BYFHA আয়োজিত Dengue Fever Eradication Campaign 2021 মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে অস্বচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ কোম্পানীগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি হলেন চেরাগ আলী ছাত্রলীগের উপর হামলা করায় অবশেষে প্রায় এক বছর পর যুবলীগ নেতা মঞ্জুর(৪০) গ্রেপ্তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাওয়ায় খুন শাহজাদপুরে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বপন এমপি আবারও অবরুদ্ধ বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য

রাবির বিগত প্রশাসনের দুর্নীতিকে আড়াল করতেই বর্তমান উপাচার্যের উপর অভিযোগ পত্র দায়েরের নাটক

মো: আলীম আল রাজি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা / ৭৮৪ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখাঃ- ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের। শুরুতে ১৬১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক পাঠদান শুরু হয় রাজশাহী কলেজে। সময়ের পালাবদলে ১৯৬৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস ও বিভাগ বর্তমান প্রাঙ্গণে স্থানান্তর করা হয় ,সবুজে ঘেরা মতিহারের বুক চিরে স্থপতি ডক্টর সোয়ানি টমাসের স্থাপত্যে তৈরি হয় একটি নয়নাভিরাম শিক্ষাঙ্গন। বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান সহ দেশের সকল ক্লান্তি লগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গন। সময়ের পরিক্রমায় বাড়তে থাকে শিক্ষার হার ,সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয় অনেক বিভাগ ,অনুষদ, গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো অনুশীলনের নিমিত্তে তৈরি হয় বিভিন্ন পরিকল্পনা ও তার বাহ্যিক ব্যবহার।এই সবকিছু সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু শিক্ষিত স্বার্থন্বেষী মহলের নিজ স্বার্থকে চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে বাড়তে থাকে দুর্নীতি নামের একটি কালো অধ্যায়।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই জননেত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন অবৈধ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দ্বারা গ্রেফতার হবার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন। শিক্ষকগণ গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেন যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাবির বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অনেক শিক্ষক স্বাক্ষর দিতে অপারগতা জানিয়ে ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ, কেউ আবার আওয়ামী আদর্শকে পুঁজি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আসীন হয়েছিলেন ।

প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান নিজ যোগ্যতা বলে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ দায়িত্ব হস্তান্তর করেন প্রফেসর মিজানউদ্দিনের কাছে, তারপরে শুরু হয় একটি অসহযোগ পরিবেশ এবং ধীরে, ধীরে সাজানো-গোছানো বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে একটি দুর্নীতির অঙ্গরাজ্য। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ১১ টাকা দামের কলম ১১ হাজার টাকায় কেনা সহ গেস্ট হাউজের জমি কেনার নামে বৃহত্তর দুর্নীতি হয় রাবি প্রশাসনের তৎকালীন কর্তাব্যক্তিদের হাত ধরে। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্রন্থাগারের উন্নয়নে হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট এর ৩ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় ।সেই টাকা দিয়ে ১১ হাজার টাকার দুটি কলম কেনেন তৎকালীন গ্রন্থাগার প্রশাসক। নিজ রুমে টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনা করে নিজের ব্যবহারের একটি ল্যাপটপ কেনেন ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকায় । ২২ হাজার টাকার microsoft-office, ১২ লক্ষ টাকা খরচ করে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ,মালয়েশিয়া ভ্রমণ, আর এফ আই ডি ট্যাগ কেনার নাম করে ২০ লক্ষ টাকা গায়েব, যার কোন হিসেব নেই । ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য ৬৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় করা হয় মাত্র একুশ লক্ষ টাকা।

অর্থের উৎস যাই হোক সরকারি ,আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের হিসেবে জমা হয় তাহলে ওই অর্থব্যয়ে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন 2006 এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা 2008) অনুসরণ বাধ্যতামূলক। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি পরিচালনা হবে সরকারের ফিন্যান্সিয়াল রুলস অনুসারে ।একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনে। অথচ, বিগত প্রশাসন কোন নিয়ম বিধিমালার তোয়াক্কা না করে, বিনা টেন্ডারে বিভিন্ন সংস্থার ,নির্মাণ ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রধানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ আদান-প্রদান করে ।এসব কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয় তৎকালীন প্রশাসনের পছন্দের শিক্ষক এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে। মেয়াদের শেষের দিকে বিনা টেন্ডারে ৪ কোটি ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট এর জন্য কাগজ কেনার অনুমোদন দেয়া হয় ,এছাড়াও বিনা টেন্ডারে উল্লেখযোগ্য কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে,৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির জন্য লিফট ক্রয় (কিন্তু টাকা ব্যয় হলেও লিফট নেই) ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঢাকাস্থ ভাড়া করা গেস্ট হাউসের সংস্কার কাজ; ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রশাসন ভবনের জন্য বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ক্রয়; ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার প্যানেল ক্রয়; ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থানের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ ও উন্নয়ন; ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওলি বাবার মাজার সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ; ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বৈদ্যুতিক কাজের জন্য হাইড্রোলিক গাড়ি ক্রয়; ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি মাইক্রোবাস ক্রয়; ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্ত্বরের উন্নয়ন; ৮২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনজন শহীদ শিক্ষকের স্মৃতিফলক নির্মাণ; ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জুবেরী ভবনের কক্ষ উন্নয়ন; ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় পানির ট্যাংকের নীচে কফিশপ নির্মাণ; প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার জন্য কাগজ ক্রয়; ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জমি খননের জন্য এক্সেভেটর ক্রয়; ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টিএসসিসির সাউন্ড সিস্টেম, স্টেজ ও লাইটিং নির্মাণ; ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস (আইবিএসসি) এর জন্য মাইক্রোবাস ক্রয়; সাড়ে ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেবাসমূহ নির্মাণ (এসব সেবা কোথায় নির্মিত হয়েছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষে)


৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে পানির ট্যাংকের নীচে নির্মিত কফিশপ। যা নির্মানের পর থেকে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে।

৮২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বুদ্ধিজীবি স্মৃতি ফলক নির্মাণের নামে তৈরি হয় আরেকটি নতুন কলঙ্কজনক অধ্যায়ের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননা করে তৈরি করা স্মৃতিফলক নির্মাণেও করা হয় দুর্নীতি। ১৪০০ কেজি পিতল ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয় মাত্র ৬০০ কেজি যা দুর্নীতির সনাতন রূপকে হার মানায়।

৮২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করে নির্মিত বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক।

এছাড়াও তৎকালীন প্রশাসনের সময় শিক্ষক নিয়োগে চরমভাবে স্বজনপ্রীতি ও প্রগতিশীলতার বিপক্ষ শক্তির আধিক্য লক্ষ্য করা যায় । উপাচার্য নিজ মেয়েকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালা মেয়ের প্রাপ্ত জিপিএকে ভিত্তি ধরে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন এবং মোট ৬৫ জন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে ৩৯ জন ছিলেন সরাসরিভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির ছাত্রসংগঠন সহ প্রগতিশীলতা বিরোধী থেকে আসা।


ইসলামী ছাত্র শিবির নেতাদের হাত থেকে রমজানের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন রাবির সাবে উপাচার্য মিজান উদ্দীন।


উপাচার্য হিসেবে নিজ কর্ম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বলে প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান ৭ মে ২০১৭ আবার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব লাভ করেন। দুর্নীতিবাজরা তাদের দুর্নীতি গুলোকে আড়াল করতে বিভিন্ন পায়তারা শুরু করে। নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিগত প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ শিক্ষকগণ উপাচার্য মহোদয়ের সম্মানহানি এবং নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন যুক্তিহীন, হাস্যকর অভিযোগ এনে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, যার ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান । বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন কাঠামোগত ,অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন হয় ,শিক্ষার মান এবং গবেষণা কার্যক্রম আরো উন্নত এবং বিশ্বমানের করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয় ,উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধানে যখন পাঁচ দশকে বিশ্ববিদ্যালয় কে বদলে দেয়ার পরিকল্পনা হয় ,শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ,আবাসন সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন হয় ,তখন বিগত প্রশাসনের দুর্নীতিবাজরা ঈর্ষান্বিত হয়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ।প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য হলো এসব ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে নিজেদের অপকর্ম, দুর্নীতিকে ঢেকে দেয়া যাতে করে চরিতার্থ হয় তাদের প্রকৃত স্বার্থ।

মাহাফুজ আলআমিন
সহ-সভাপতি
রাবি ছাত্রলীগ


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “রাবির বিগত প্রশাসনের দুর্নীতিকে আড়াল করতেই বর্তমান উপাচার্যের উপর অভিযোগ পত্র দায়েরের নাটক”

  1. Mohon says:

    চোখ কপালে উঠে গেলো😲

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com