Logo

বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে করোনাকালীন সময় সমন্বয় করতে পারে

জি.এম. কাওছার-প্রকাশক(EngineersNews24) / ৪৯২ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

লেখক- ইয়াছির আরাফাতঃ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব দেশেরই অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের অবস্থাই শোচনীয়। বাংলাদেশেও করোনা শনাক্তের পর থেকে এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শুরুর দিকে কঠোরভাবে লকডাউন দেওয়া হলেও দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে এই সংকটের মাঝেও কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সবার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি বাড়াতে বাড়াতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে খুলবে নাকি আবারো ছুটির মেয়াদ বাড়বে সেটা অনিশ্চিত। তবে শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে ইতিমধ্যেই দুই ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে চলতি বছরের মধ্যেই সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করা হবে। তা সম্ভব না হলে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি পোষাতে কি ধরনের উদ্যোগ বা পরিকল্পনা করা হয়েছে সে বিষয়ে আলাদাভাবে কিছু জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবর্ষ থেকে করোনাকালীন যে সময় হারিয়ে গেলো সেটা সমন্বয় করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন ও পরিকল্পনা করা দরকার। লকডাউনের সময়ে আমরা দেখেছি অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। যদিও আমাদের দেশে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বা গ্রাম অঞ্চলে সহজ প্রাপ্যতা নেই, এমনকি শতভাগ শিক্ষার্থীর স্মার্ট ডিভাইস নেই তথাপি তারা কিভাবে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুনভাবে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ডিভাইস ও ডাটা প্যাক সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। যেটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাস্তবায়ন হতে হতে করোনা পরিস্থিতি ও হয়তো স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। যদি আগে থেকেই এমন উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা যেতো তাহলে হয়তো এই হারানো সময় পুনরুদ্ধারের কথা নতুনভাবে ভাবতে হতো না। যাইহোক মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ধরি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হলো। তাহলে বন্ধের (১৮ মার্চ ২০২০) পর থেকে ক্লাস শুরু পর্যন্ত প্রায় ৬ মাসের লম্বা একটা সেশনজটের হিসাব। এখন এই ৬ মাসের গ্যাপ সমন্বয়ে যদি পরের তিনটা সেমিস্টারে ‘প্রাইম সেমিস্টার’ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তাহলে এক বছরে তিনটা সেমিস্টার শেষ করা সম্ভব। শিক্ষাবিদদের ভাষায়, বছরে দুই সেমিস্টার পদ্ধতিকে ‘ডুয়েল সেমিস্টার’ ও তিন সেমিস্টার পদ্ধতিকে ‘প্রাইম সেমিস্টার’ বলা হয়। তবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সাপ্তাহিক ছুটি একদিন করা যেতে পারে এবং সেমিস্টার পরবর্তী ছুটিও কমানোর বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। যদি সেটা বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে পরবর্তী দুই সেমিস্টারের সময়েই সংকটকালীন হারানো সময় সমন্বয় করা যাবে। যারা বর্তমানে শেষ বর্ষে আছে তাদের জন্য সম্পূর্ণ সময়টা ফিরে পাওয়া সম্ভব না হলেও অন্য সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামত জরিপ করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যেতে পারে।

অক্সফোর্ড সহ উন্নত বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাই সেমিস্টার অর্থাৎ এক বছরে তিন সেমিস্টার পদ্ধতি চালু আছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ মাসে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু আছে। যদিও ৪ মাসে সেমিস্টার পদ্ধতি বন্ধ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা লক্ষ্য করছি আপদকালীন সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে। শিক্ষার বিষয়েও বিভিন্ন বিকল্প ভাবছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও পরিকল্পনা থাকা দরকার। তবে যদি সেমিস্টারের সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষাবর্ষ ও শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যদি ৬টি মাস কালের গর্ভে না হারিয়ে ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা যায় তাহলে নিশ্চয়ই মন্দ হয় না।

লেখকঃ প্রকৌশলী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com