Logo
শিরেোনাম ::
রাজশাহীর তানোরে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যাস্ত চাষীরা রাজশাহীতে নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক কঠোর লকডাউন অমান্য করে অবৈধ মেলা- ১ লাখ টাকা জরিমানা লালমাইয়ে ভুল চিকিৎসায় নারীর গর্ভপাত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় সংসদ সদস্য জনাব শাহে আলম এর জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে “প্রবাসী সমাজ কল্যাণ তহবিল” এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বাসীকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানান এড. মাহফুজুর রহমান মোঃ নাসির উদ্দিনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে ৭০০০ মাক্স উপহার গোমস্তাপুরে জিনিয়াস ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজনে করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশনের ফ্রি ক্যাম্পেইন

ইউজিসি কর্তৃক রাবি উপাচার্যকে গণশুনানির তলব কি স্বায়ত্তশাসন এর ওপর আঘাত নয়?

আলীম- আল - রাজি, রাবি প্রতিনিধি / ৫৪০ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

রাবি প্রতিনিধিঃ

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হতো ব্রিটিশ আইন ও ঐতিহ্য অনুযায়ী। ব্রিটিশ ধারা অনুযায়ী পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারের একান্ত অনুগত ভৃত্ত হিসেবে বিবেচিত হতেন যার কারণে বিবেকের প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে তারা বঞ্চিত হতেন ,এমনকি মেধাবী ছাত্র হবার পরেও শুধুমাত্র সরকারবিরোধী, প্রগতিশীল ধারার রাজনীতি করার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারতেন না।স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার জন্য একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরী করা অতি জরুরী হয়ে পড়ে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকরা জাতি গঠনে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করতে পারেন এরই ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে অধ্যাদেশ জারি করেন যা ৭৩ অধ্যাদেশ নামে পরিচিত এবং এটি ছিল কাঙ্খিত ও প্রয়োজনীয়।
৭৩ অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন ”আমি তোদের দিলাম তোরা এর মর্যাদা রক্ষা করতে পারবি তো?

পরবর্তীতে ৭৩ অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসন দ্বারা পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বারংবার স্বায়ত্তশাসন এর উপর আঘাত এসেছে এবং প্রকৃত স্বাধীনতাকামী ও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ তার বিরোধিতা করেছেন, অনেক সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট স্বায়ত্তশাসন এর উপর অনেক বড় আঘাত এসে পড়ে যদিও তাঁর রাজনৈতিক একটি পটভূমি ছিলো, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক আঘাত করে প্রকৃতপক্ষে স্বায়ত্তশাসন এর উপর সেনাশাসিত তৎকালীন সরকারের নেতিবাচক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা।

৭৩ অধ্যাদেশের বৈশিষ্ট্য:

(১)আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ।
(২)বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে উপাচার্যের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে কর্তৃত্ব ক্রমোতন্ত্র।
(৩) সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কাঠামোগতভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা অনুপস্থিতি।

উপাচার্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে কি দৃশ্যমান কি অদৃশ্যমান সকল ক্ষমতার মালিক তিনি যা ৭৩ অধ্যাদেশের ধারা ১২ উপচার্যের ক্ষমতা বিবৃত করা হয়েছে।উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। উপাচার্য একইসঙ্গে সিনেট-সিন্ডিকেট-একাডেমিক কাউন্সিল-পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন কর্তৃপক্ষের সভায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন, মতামত দিতে পারবেন। কোন কারণে সভা-সদস্যদের সিদ্ধান্তর সঙ্গে তার দ্বিমত হলে, তিনি তা ঐ কর্তৃপক্ষকে পুণর্বিবেচনা করতে বলতে পারবেন। তবে ঐ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে উপাচার্য তা সরাসরি সিন্ডিকেটের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করবেন। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের উপর কিছু মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে ইউজিসি কর্তৃক গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে যেটি অবশ্যই ৭৩ অধ্যাদেশ বিরোধী এবং স্বায়ত্তশাসন এর উপর একটি বড় আঘাত। কিছু ,কিছু অভিযোগ এতটাই মনগড়া এবং হাস্যকর যা একজন কিশোর বালকের কাছেও হাস্যরসের যোগান দেবে‌ যেমন: বলা হয়েছে মহামান্য আচার্যকে ধোঁকাবাজি দিয়ে উপাচার্য মহোদয় নিয়োগ পেয়েছেন যা প্রচলিত কৌতুক কেও হার মানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ধাপ কিভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে সম্পন্ন করা হয় তা সকলের জানা যেখানে ধোঁকাবাজি বা তথ্য গোপন করার কোনো সুযোগ নেই। প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ড যেমন টিএসসিসি বিনির্মাণ, আবাসিক সমস্যা দূরীকরণ, রাকসুর চলমান দুর্নীতি বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ সহ বিশ্ববিদ্যালয় কে শিক্ষার্থী বান্ধব করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন যার প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে তাকালেই প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান একটি বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি বিশ্বমানের, আধুনিক ,গবেষণা নির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের পথে বাধাস্বরূপ মনগড়া অভিযোগ দ্বারা নির্মিত অভিযোগপত্র দায়ের করে উপাচার্য মহোদয় কে শুধু বিরক্ত করাই প্রকৃত সমস্যা নয় বরং এটি স্বাধীন ,স্বায়ত্তশাসন এর ওপর আঘাত বললেও ভুল হবে না।

মাহফুজ আল আমিন
সহ-সভাপতি
রাবি ছাত্রলীগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com