Logo
শিরেোনাম ::
ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ রোভাররের অ্যাওয়ার্ড পেলেন বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী হৃদয় শ্রীমঙ্গলে পৌর নির্বাচনে নৌকার মাঝি অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিনে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া গাউছিয়া অটো রাইচ মিল মালিকের পক্ষ থেকে পটিয়া মুন্সেফ বাজারে পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন গরীব,দুস্থ ও জেলেদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় ডুয়েটের ১৯ শিক্ষক বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় পবিপ্রবির ২৩ শিক্ষক তানোর উপজেলা বাসীকে শারদীয় দূর্গা পূজার আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা মঈনুদ্দীন সোনার বাংলা সমাজকল্যাণ সংস্থার নতুন সভাপতি মোঃ আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান শ্রীমঙ্গলে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ভানুর জয়

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের উন্নয়নের নতুন স্বপ্নদ্রষ্টা সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন

মোঃ বাপ্পী রহমান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি / ১৩২ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

রাজশাহী প্রতিনিধি : ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’ ইরানের বিখ্যাত মনীষী শেখ সাদী (রহ.) এ প্রবাদটি বলেছিলেন। অর্থাৎ তার বাক্যটির মূল বক্তব্য হচ্ছে, একজন উত্তম বন্ধু যেমন জীবনের গতি পাল্টে দিতে পারে, তেমনি একজন অসৎ বন্ধু জীবনকে ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিতে পারে।

ঠিক তেমনই একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য মানুষ ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে যোগদান করার পরে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে বোর্ডের সাধারণ কর্মচারী, বোর্ডের সেবা গ্রহীতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।

জানা যায়, তিনি শিক্ষাবোর্ডে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে বোর্ডের সকল শাখা, দপ্তর ও আর্থিক শৃংখলা স্থাপনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সকল ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এরফলে অর্থ সাশ্রয় শুধু নয়, পাশাপাশি শৃংখলাও ফিরেছে।

শিক্ষাবোর্ডে কোন অনিয়ম করে যাতে কেউ অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা না নিতে পারে সেদিকে সচিবের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত বলে জানা গেছে। বোর্ডে সেবা গ্রহীতাদের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যাতে কোন অসুবিধা না হয়, তা তিনি নিবিড় তদারকি ও নিবিড়ভাবে দেখাশোনা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন যোগদান করার সময় বোর্ডে সংশোধনীর আবেদন পেনডিং ছিল ৫ হাজার। কিন্তু তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে তা প্রায় ২ হাজারে নেমে এসেছে। এই সংশোধনীর কাজ ম্যানুয়েল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটালাইজ করার পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। যা শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে এবং সেবা গ্রহীতারা সহজে অল্প সময়ে সেবা পাবে।

তিনি বোর্ডের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রত্যেক শাখায় কর্মচারী-কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে যান এবং তাদের কাজের সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে কথা বলেন। এরফলে কমচারীরা অধিক উৎসাহিত হয়ে কাজ করেন বলে জানা যায়।

বোর্ড সচিবের বলিষ্ট ভূমিকার ফলে কর্মচারীদের টেবিলে কাজ জমা পড়ে থাকে না। দিনের কাজ দিনে করার চেষ্টা করে। কোন সেবা গ্রহিতা সেবা পেতে সমস্যা হলে তিনি সাথে সাথে সমাধানের ব্যবস্থা করেন। আরো জানা যায়, ইতোপূর্বে যেখানে যেখানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনর অতীত জীবন সম্পর্কে জানা যায়……

চাকরি জীবনে রাজশাহী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি কলেজ হোষ্টেলের দায়িত্ব সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এসময় কলেজ হোষ্টেলে বহিরাগতদের চলাফেরা মুক্ত করে সাধারণ ও মেধাবী ছাত্রদের সিটের ব্যবস্থা করেছেন।

সেখানে আর্থিক শৃংখলা স্থাপন করে হোষ্টেলের ফান্ডের অনেক অর্থ বৃদ্ধি করে নিজস্ব ফান্ডের মাধ্যমে হোষ্টেল পরিচালনার ব্যবস্থা করেন। যা বর্তমানে এই অবস্থা নেই। এরপর ২০১৬ সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচলক হিসেবে দায়িত্বে থাকা কালীন সময়েও অনেক স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাক্ষর রাখেন।

রাজশাহী অঞ্চলের ৪০টি কলেজ জাতীয়করণের কাজ অফিসের সকলকে নিয়ে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পাদন করেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবিড় পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এরপর তিনি ২০১৮ সালের জুন মাস হতে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ রাজশাহীর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম দিকে কলেজেই শিক্ষার্থীরা আসতো না, একটা ভুতড়ে অবস্থা বিরাজিত ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে কলেজের তিনি আমুল পরিবর্তন করেন তিনি।

এই কলেজের নাম ছিল বরেন্দ্র সরকারি কলেজ। তিনি তা পরিবর্তন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ নাম করণ করেন। কলেজে শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতির ব্যবস্থা করেন। কলেজের ভিতরে শিক্ষার্থীদের চলাফেরার ব্যবস্থা ছিলন না।

সেখানে ভরাট ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে আঙ্গিনা পাকা করণ করে সেখানে দৃষ্টি নন্দন ফুলের বাগান করেন। কলেজের বাইরে আবর্জনা যুক্ত দুটি বড় গর্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশরেন মাটি দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ভরাট করে সেখানেও দৃষ্টি নন্দন ফুলের বাগান করেন। ছেলেমেয়েদের যাতে বাইরে যেতে না হয় সেজন্য তিনি কলেজের ফিতরে মধুমালা নামে একটি ক্যান্টিন চালু করেন।

কলেজে লাইব্রেরী সচল ছিল না তা সচল করেন। কোন ল্যাব সচল ছিলনা তা চালু করেন। একটি সুন্দর সুসজ্জিত মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি তৈরি করেন। কলেজে রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, বিতর্ক ক্লাব, পাঠক ক্লাব, মানুষ মানুষের জন্য নামক সেবা সাহায্য মূলক সংগঠন গড়ে তোলেন।

কলেজে নিয়মিত খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এর আয়োজন করেন। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ফলাফলের উন্নয়ন ঘটান। তার এই সল্প সময়ের কার্যকলেই তিনি কলেজকে রাজশাহীর একটি অন্যতম ভাল কলেজে পরিণত করেছিলেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিবারের সন্তান হিসেবে সেই আদর্শ লালন করে তিনি নিজেকে ছাত্র জীবন থেকেই সমাজ সেবার মধে এখনো জড়িত রেখেছেন। এছাড়া তিনি চারঘাট এলাকায় লাইব্রেরী পরিচালনা, অনেক বৃক্ষরোপণ করেছেন, চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন প্রতি বছর। এই করোনা কালীন সময়ে ব্যক্তিগত ভাবে সহয়োগিতার হাত বাড়িয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
P