Logo
শিরেোনাম ::
‘পাইলট ট্রেনিং-৬ এয়ারক্রাফট’ স্থাপন করলো ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নাসির উদ্দিন নাসিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাবা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার কাছে কন্যার খোলা চিঠি শাহজাদপুরে কোটি টাকায় ২ কিলো রাস্তায় মাটি ভরাট -১৫ হাজার মানুষের চলাচলে চরম দূর্ভোগ করোনা রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাঃসবুজ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ সিলেট বিভাগীয় কমিটি গঠ কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে ভেজাল বিটুমিন তৈরি কারখানায় অভিযান মালিক সহ ২জনকে কারাদন্ড এ্যাডভোকেট এ এম মোয়াজ্জেম হোসেন’র মৃত্যু বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদন পটিয়া জিরি ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে কেন্দ্রীয় নেতা বদিউল আলম প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক ও জলজ জীবনের সবচেয়ে বড় হুমকি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সাবেক ছাত্র নেতা নুর মোস্তফা টিনুর হৃদয় বিদারক বার্তা

অনিন্দ্য বৈদ্য সানি চীফ ব্যুরো চট্টগ্রাম / ৯২০ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

অনিন্দ্য বৈদ্য সানি, চীফ ব্যুরো চট্টগ্রাম মহানগরঃ

সাবেক ছাত্র নেতা নুর মোস্তফা টিনু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য একটি হৃদয় বিদারক বার্তা লেখেন যেটা হুবহু দেয়া হল।

মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী,মমতাময়ী মা
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

প্রথমে আমার সালাম, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা নিবেন। আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছেন।
প্রিয় নেত্রী মমতাময়ী মা আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আপনাকে লিখছি,কারণ আপনিই রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থল। প্রিয় নেত্রী মমতাময়ী মা আপনি আমার সবটুকু লিখা পড়বেন সেই আশায় সত্যিকারের সব কথা তুলে ধরছি।

মমতাময়ী মা আমি আপনার সংগঠনের একজন সংগঠন প্রেমী ত্যাগী এক রাজনৈতিক কর্মী, বর্তমান সময়ে বিরাট এক সিন্ডিকেটের চরম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের স্বীকার ওমরগণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সবুজ ক্যাম্পাস থেকে বেড়ে উঠা রাজপথের ত্যাগী আমি আপনার একজন কর্মী নুর মোস্তফা টিনু,আজ আমি আপনাকে আমার রাজনৈতিক জীবনের সত্যিকারের ইতিহাসগুলো বলবো।

প্রিয় নেত্রী, আমি ছিলাম চট্টগ্রামের ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক একজন সফল সভাপতি। প্রিয় নেত্রী মমতাময়ী মা আপনি একান্তই খোঁজ নিয়ে দেখুন,আমি একজন ত্যাগী সংগঠক।এবং বর্তমানে সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রের শিকার।

প্রিয় নেত্রী, আমি আপনার কর্মী নুর মোস্তফা টিনু, বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে বুকে ধারন করে ১৯৯৫ ইং থেকে জামাত শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট খ্যাত চকবাজারে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। আমি সর্বপ্রথম চকবাজারে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলাম চকবাজারে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। যার অপরাধে জামাত শিবির আর পুলিশ দ্বারা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম

চকবাজারে ছাত্ররাজনীতি করার অপরাধে ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের শিবির এর টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতন করে। জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে শুধুমাত্র আমার নেতৃত্বে চকবাজারে ছাত্রলীগের মিছিল হয়েছে। আর কেউ মিছিল করার সাহস করেনি। যার ফলস্বরুপ আমি পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি বহুবার।

আজ যারা আমাকে নিয়ে সমালোচনা করছে, মিডিয়াকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যা সংবাদ প্রচার করাচ্ছে, ০১.১০.২০০১ইং সালের নির্বাচন পরবর্তী দলের দুঃসময়ে দলের পক্ষে চকবাজারে সেদিন তারা কেউ কোনো মিছিল মিটিং করেনি। দলের সেই দুঃসময়ে প্রিয় নেত্রী আপনার পক্ষে দলের ব্যানারে একমাত্র আমি নুর মোস্তফা টিনুর নেতৃত্বেই চকবাজার এবং পাঁচলাইশের বিভিন্ন অলিতে গলিতে মিছিল মিটিং হয়েছে। যার জন্য আমি জামাত শিবিরের নির্যাতনসহ কারা নির্যাতিত হয়েছি অনেকবার।
২৯.১২.২০০৮ইং এবং ০৫.০১.২০১৪ইং জাতীয় নির্বাচনকে সফল করার জন্য নির্বাচনের তিনদিন আগে থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চকবাজার, কাপাসগোলা, পাঁচলাইশ এলাকার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখে আমি নুর মোস্তফা টিনুর নেতৃত্বে আমার ছাত্রলীগের কর্মীরা। যাদের থাকা খাওয়ার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছিলাম আমি নিজেই।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রগুলোতে আসা যাওয়ার জন্য যাবতীয় নিরাপত্তাসহ নিজ খরচে পরিবহনের ব্যবস্থা করেছিলাম মমতাময়ী মা আপনার কর্মী আমি নুর মোস্তফা টিনু। তখন ভোট কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বে ছিলেন পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি ওমর ফারুক এর নেতৃত্বে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। গত ৩০.১২.২০১৮ ইং জাতীয় নির্বাচনেও মমতাময়ী মা শেখহাসিনা আপনার কর্মী আমি নুর মোস্তফা টিনুর অবদান ছিলো উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনকে সফল করার জন্য শারীরিক, মানসিক, আর্থিক সব রকমের ত্যাগ স্বীকার করেছিলাম সেদিন আমি।

আজ যারা আমি টিনুকে নিয়ে সমালোচনা করছেন, কে এই টিনু বলে সংবাদ প্রচার করছেন, তাদের কেউ সেদিন রাজপথে ছিলোনা, আওয়ামী সরকার ক্ষমতাই আসবে কি আসবেনা এই ভেবে তারাই সেদিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলো। সরকার ক্ষমতায় না আসলে কি হবে, মিডিয়ার সামনে যাবো কি যাবো না, যদি পত্রিকায়, যদি কেনো নিউজে নিজেদের ছবি চলে আসে, তখন কি হবে, এইসব ভেবে সেদিন কেউ রাজপথে নামেনি। চকবাজার, কাপাসগোলা, পাঁচলাইশের ভোট কেন্দ্র গুলোতে তাদের কাউকে দেখা যায়নি। কেন্দ্র গুলোতে সেদিন মমতাময়ী মা রাষ্ট্রনায়ক শেখহাসিনা আপনার কর্মী নুর মোস্তফা টিনু নির্দ্বিধায় তার কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন সফল করার জন্য প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিলো। সিসি ক্যামরার ফুটেজ আর সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসনই তার প্রমান।

১৯.০৯.২০১১ ইং সালে জামাত শিবিরের তান্ডব চলাকালে পাচঁলাইশ জোনের তৎকালীন এসি মান্নান এর উপর যখন জামাত শিবির মুরাদপুর মোড়ে অর্তকিত হামলা করেছিলো এবং পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি ইসমাইল , সেকেন্ড অফিসার মর্জিনা , এসআই সাজ্জাদ, এসআই শাহ আলম বিভিন্ন সময়ে যখন জামাত শিবির দ্বারা হামলার শিকার হয়েছিলো তখন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম আপনার কর্মী আমি নুর মোস্তফা টিনু। সেই অসময়ে আমি আমার ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে জামাত শিবির কর্তৃক হামলাকৃত পুলিশ অফিসারদের পাশে দাড়িয়ে জামাত শিবির বিতাড়িত করেছিলাম। সেই অসময়ে জনগনের জান মাল রক্ষার জন্য সেই পুলিশ অফিসারদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছিলাম আমি আপনার কর্মী নুর মোস্তফা টিনু, যার সাক্ষী তখনকার পুলিশ প্রশাসন। আজ যারা বড় বড় কথা বলছেন,আমাকে নিয়ে সমালোচনা করছে, নুর মোস্তফা টিনুকে নানা রকমের মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে, নিজেদের বড় নেতা মনে করছে, তখন তারা কেউ সেদিন এই পুলিশ অফিসারদের পাশে ছিলোনা। তাদের কাউকে তখন রাজপথে দেখা যায়নি।
মুরাদপুর মোড়ে যখন জামাত শিবিরের হামলায় এসি মান্নান গুরুতর আহত তখন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মান্নান সাহেবকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম আমি নুর মোস্তফা টিনু। আজ যারা কে এই টিনু বলে সংবাদ প্রচার করেন, চকবাজারে যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবী করেন, তারা সেদিন আত্মগোপনে ছিলো।

পাঁচলাইশ থানায় ওসি প্রদীপ সাহেব থাকাকালে যখন পাঁচলাইশের বিভিন্ন স্থানে জামাত শিবির নাশকতা করেছিলো এবং প্রদীপ সাহেব সহ তৎকালীন তদন্ত ওসি আজিজ সাহেব বিভিন্ন সময়ে জামাত শিবির দ্বারা অর্তকিত হামলার শিকার হয়েছিলো, তখনো এই নুর মোস্তফা টিনুই তার কর্মীদের নিয়ে তাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন।
এরপরে বিভিন্ন সময়ে বহদ্দারহাট থেকে শুরু করে বাদুরতলা, বড়গেরেজ, জঙ্গীশাহ, তেলিপট্টি, ডিসি রোড, দেয়ানবাজার, প্যারেডকর্ণার, গোলজারমোড়, চট্টেশ্বরী রোডে জামাত শিবির পরিকল্পিত তান্ডব চালিয়েছিলো তখনো এই হামলার শিকার হয়েছিলো পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা। তখনো তাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন নুর মোস্তফা টিনু।

নিজামীর রায়কে কেন্দ্র করে আন্দরকিল্লা, চকবাজারে যখন জামাত শিবির তান্ডব চালিয়েছিলো এবং পুলিশের উপর হামলা করেছিলো সেইদিনও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে পুলিশের পাশে দাড়িয়েছিলেন নুর মোস্তফা টিনু। যার সাক্ষী সদরঘাট থানার সাবেক ওসি মর্জিনা, মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ, টাঙ্গাইলের সিআইডি অফিসার আজিজ, রাঙ্গুনিয়ার তদন্ত ওসি আজাদ।
বায়েজিদে যখন পুলিশের উপর জামাত শিবির গুলি বর্ষন করেছিলো তখন চকবাজার থেকে ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে বায়েজিদে ছুটে গিয়েছিলেন নুর মোস্তফা টিনু। সেই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা জহির ও জামাল সাহেবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন নুর মোস্তফা টিনু।
পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন সাব ইন্সপেক্টর জাহাংগীর এর উপর যখন জামাত শিবির ছুরিকাঘাত করেছিলো তখনো জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে তার পাশে দাড়িয়েছিলেন নুর মোস্তফা টিনু। যার সাক্ষী পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি নবজ্যোতি কৃষা।

দেশে যখন বিএনপি, জামাত-শিবিরের তান্ডব বেড়ে গিয়েছিলো এবং আন্দরকিল্লা, চকবাজার, পাঁচলাইশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি, জামাত-শিবির জ্বালাও পোড়াও করছিলো তখন পুলিশ প্রশাসনের একার পক্ষে তা দমন করা সম্ভব ছিলোনা। সেই দুঃসময়ে নুর মোস্তফা টিনু তার কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বিএনপি, জামাত-শিবিরের তান্ডব রুখে দিয়েছিলেন।
২০০৯ সালে ফজলে নুর তাপস এমপির উপর বোমা হামলার প্রতিবাদে চকবাজারে একমাত্র নুর মোস্তফা টিনু তার কর্মীদের নিয়ে মিছিল করেছিলেন। তখন চট্টগ্রামের ডিসি ছিলেন বনজ কুমার মজুমদার।

কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে যখন সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও হচ্ছিলো এবং আন্দরকিল্লা থেকে চকবাজার পর্যন্ত জামাত শিবির তান্ডব চালিয়েছিলো তখন পাঁশলাইশ থানার তৎকালীন ওসি আজিজ আহমেদসহ নুর মোস্তফা টিনুর নেতৃত্বে সেই তান্ডব প্রতিহত করণে তার কর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তখনকার দিনের ভিডিও ফুটেজ তার প্রমান।
২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাঁচলাইচ থানায় ওসি ফারুখ সাহেব থাকাকালে পাঁচলাইশ ও চকবাজারে জামাত শিবির বিভিন্ন নাশকতা করেছিলো, এবং পাঁচলাইশের অনেক পুলিশ আহত হয়েছিলো তখনো জামাত শিবির প্রতিহত করনে সেই পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পাশে ছিলেন নুর মোস্তফা টিনু।কাদের মোল্লার রায়ের সময়ে পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ এর নেতৃত্বে আরকান সোসাইটি থেকে নুর মোস্তফা টিনুর সহযোগিতায় অস্ত্র গোলাবারুদসহ জঙ্গী গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।
চকবাজার থানায় তৎকালীন ওসি আতিক সাহেব থাকাকালে চকবাজার থানায় যখন বোমা হামলা হয়েছিলো তখনো নুর মোস্তফা টিনু তার কর্মীদের নিয়ে চকবাজার থানায় ছুটে গিয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী দলের দুঃসময়ে অলংকার মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় যখন সভা সমাবেশ করেছিলেন তখনো চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি এমআর আজিম এর নেতৃত্বে চকবাজার থেকে ট্রাকে ট্রাকে কর্মী নিয়ে সেই সভা সমাবেশে নেতার পাশে দাড়িয়েছিলেন নুর মোস্তফা টিনু।
চট্টগ্রাম কলেজে যখন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মহোদয় এসেছিলেন তখন মন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য পুরো কলেজ এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করেছিলেন নুর মোস্তফা টিনুর নেতৃত্বে তার কর্মীরা। মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে কলেজের ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন এবং সার্বক্ষণিক মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে ছিলেন নুর মোস্তফা টিনু। যার সাক্ষী সেই সময়ের ভিডিও ফুটেজ এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসন।
১৬.১২.২০১৫ ইং সালে চট্টগ্রাম কলেজ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামাত শিবির হামলা করেছিলো, কলেজের চারপাশ যখন রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিলো তখনো এই নুর মোস্তফা টিনু সেদিন সবাইকে রক্ষা করেছিলেন। সেদিন তার কর্মীরাই জামাত শিবির বিতাড়িত করে কলেজ এলাকায় নিরারাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিলো, সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিলো কলেজের শিক্ষার্থী আর পুলিশ প্রশাসনকে। অন্যরা এসেছিলো গন্ডগোলের অনেক পরে। সেদিন নুর মোস্তফা টিনুকে ছাড়া মিছিল নিয়ে কেউ কলেজে প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারেনি। সেইদিন নুর মোস্তফা টিনু ছিলো বলে, নুর মোস্তফা টিনুর কর্মীরা ছিলো বলে, আজ চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের পতাকা উড়ছে।

আজ যারা নুর মোস্তফা টিনুকে নিয়ে নানা রকম মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারাই সেদিন নুর মোস্তফা টিনুর সাহায্য কামনা করেছিলো, হাত পেতে টিনুর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলো, কলেজে এমন কেউ নেই যে নুর মোস্তফা টিনুর অন্ন ভোগ করেনি। তারাই সেদিন নুর মোস্তফা টিনুকে ছাড়া কলেজে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করার সাহস করেনি। সেদিন যদি নুর মোস্তফা টিনু না থাকতো তাহলে তাদের অস্তিত্ব আজ কলেজে থাকতোনা আর ছাত্রলীগের পতাকাও কলেজে উড়তোনা। অত্র দুই কলেজে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য শারীরিক, মানসিক, আর্থিক সব রকমের ত্যাগ শিকার করেছেন নুর মোস্তফা টিনু।

কথায় বলে ঘাট পার হলে ঘাইট্টা শালা হয়ে যায়। কথাটা তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা টিনুর সমালোচনায় লিপ্ত রয়েছে। তারা হয়তো জানেননা সমালোচনা অনেকক্ষেত্রে নিজেদের অজ্ঞতার পরিচয় দেয়, নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
প্রিয় নেত্রী, দল করে সবাই ফায়দা লুটেছে। আজ যারা চকবাজারে যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবী করছে, তারা কেউ চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজকে শিবির মুক্ত করে অত্র দুই কলেজ আপনাকে উপহার দিতে পারেননি। একমাত্র নুর মোস্তফা টিনু জীবন বাজী রেখে অত্র দুই কলেজকে জামাত-শিবির মুক্ত করে আপনাকে উপহার দিয়েছেন।

প্রিয় নেত্রী, চকবাজারে একমাত্র প্রতিবাদী কন্ঠস্বর যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু। গত ১০ জানুয়ারি ২০১৯ইং চকবাজারের মাছবাজার মাহমুদ আলি লাইনে দুষ্কৃতিকারীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলে। যে প্রতিকৃতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন ২০০৮ সালে তৎকালীন সাংসদ আলহাজ্জ্ব নুরুল ইসলাম বিএসসি। সেই জাতির পিতার প্রতিকৃতি ভেঙে দিয়েছে এলাকার চিহ্নিত কিছু দুষ্কৃতিকারী। অথচ প্রতিবাদ করার মতো যেন কেউ নাই চকবাজারে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলায় যেন কারো বুক কেঁপে উঠেনি। কারো এতটুকু খারাপ লাগেনি। কেউ কোনো প্রতিবাদে এগিয়ে আসেনি। কিন্তু স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেননি সাবেক ছাত্রনেতা নুর মোস্তফা টিনু। পিতার প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলার খবর শুনে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলায় পুরো চকবাজারের মধ্যে এই একজন মাত্র ব্যক্তিই প্রতিবাদ করেন, করেন বিক্ষোভ সমাবেশ। উপস্থিত চকবাজার থানার ওসি তদন্তের সম্মুখে দুষ্কৃতিকারী সুলতান মাহমুদ খান আয়াজকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন কেনো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। খান আয়াজ জবাবে নুর মোস্তফা টিনুকে হুমকি দেওয়া সহ বঙ্গবন্ধু পরিবার নিয়ে নানা কটূক্তিমুলক বক্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধু পরিবার নিয়ে এইসব কটুবাক্য সহ্য করতে না পেরে, নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে, পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙ্গার অভিযোগে নুর মোস্তফা টিনু বাদী হয়ে ১। সুলতান মাহমুদ খান আয়াজ ২। মহিবুল্লাহ ৩। এ এইচ এম মোদাচ্ছের হক কে আসামী করে বিজ্ঞ সি এম এম ৪র্থ আদালত আল ইমরানের কোর্টে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত ১২৩ এ,১২৪ এ,৫০০,৫০১,৫০২ দন্ড বিধিতে অপরাধ আমলে নিয়ে চকবাজার থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। নুর মোস্তফা টিনু সংগঠন প্রেমী একটি প্রতিবাদী সংগঠনের নাম। নুর মোস্তফা টিনু আর কিছু পারুক আর না পারুক সংগঠনের জন্য জীবন বাজী রাখতে পারেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অবমাননায় প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারেন। প্রিয় নেত্রী আপনার জন্য হাসি মুখে জীবন বিলিয়ে দিতে পারেন।
প্রিয় নেত্রী, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, কারা নির্যাতিত নুর মোস্তফা টিনু আজ একটি সফল সংগঠন, এই সংগঠনের সফলতায় চুলকানি শ্রেণি আজ ঈর্ষান্বিত। প্রিয় মমতাময়ী মা তাই বিএনপি, জামাত-শিবির এবং আওয়ামিলীগে অনুপ্রবেশকারীদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের বিরাট একটি ষড়যন্ত্রের স্বীকার যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা মাহবুবুল হক সুমন এর মায়ের জানাযার নামাজ পড়ে আসার পথে বিনা কারনে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে নুর মোস্তফা টিনুকে আটক করে চট্টগ্রাম র্যাব-৭। এর পর অস্ত্র উদ্ধার নামক নাটক সাজানো হয়। এরপর অনেক আইনি হয়রানি আর নির্যাতনের পর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ দুপুর ১.৩০ ঘটিকার সময় নুর মোস্তফা টিনুকে পাঁচলাইশ থানায় হস্তান্তর করে র্যাব-৭। এবং ঐ দিন নুর মোস্তফা টিনুকে আদালতে বিচারকের সামনে হাজির না করে রাত ৮.০০ ঘটিকার সময় রেব এবং পাঁচলাইশ থানা পুলিশ যৌথভাবে নুর মোস্তফা টিনুকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরন করেন। এই সবই ছিলো নুর মোস্তফা টিনুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রহসন।
রাজপথ থেকে সরানোর জন্য, রাজনৈতিকভাবে কোন ঠাসা করে রাখার জন্য, চকবাজার এলাকাকে আবার জামাত-শিবিরের ক্যান্টনমেন্টে পরিনত করার জন্য নুর মোস্তফা টিনুর বিরুদ্ধে যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও আওয়ামীলীগ নামধারী অনুপ্রবেশকারী নেতাদের এক গভীর ষড়যন্ত্র। তারা চায়না নুর মোস্তফা টিনু বেঁচে থাকুক, তারা চায়না নুর মোস্তফা টিনু রাজপথে থাকুক, কারন নুর মোস্তফা টিনুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি চকবাজারে জামাত-শিবিরের আতংক। নুর মোস্তফা টিনু গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপি, জামাত-শিবির এবং তাদের আঁতাত কারীরা যৌথভাবে চকবাজারে মিছিল বের করে। অথচ নুর মোস্তফা টিনু চকবাজারে থাকাকালে বিএনপি, জামাত-শিবির মিছিল করে কোনোদিন সফল হতে পারেনি।
প্রিয় নেত্রী চকবাজারকে জামাত-শিবির মুক্ত রাখার জন্য চকবাজারে নুর মোস্তফা টিনুর খুবই প্রয়োজন।
প্রিয় নেত্রী, নুর মোস্তফা টিনুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নিজের ব্যক্তিগত উদ্যােগে চকবাজারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করেছেন। যা চকবাজারে বঙ্গবন্ধু চত্বর নামে পরিচিত। যার শুভ উদ্ভোদন করেন সাবেক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
প্রিয় নেত্রী, আপনার নির্দেশে সারা দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রিয় নেত্রী আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ এই শুদ্ধি অভিযানকে যেনো কেউ উদ্দেশ্য হাসিলের কাজে ব্যবহার করতে না পারে। এই শুদ্ধি অভিযানের নামে যেনো আপনার দলের প্রকৃত ত্যাগী কর্মীদের দমন করা না হয়। রাজপথ থেকে ত্যাগী কর্মীরা হারিয়ে যাওয়া মানে দলের অপূরনীয় ক্ষতি। কারন, এই ত্যাগী কর্মীরাই আপনার জন্য, দলের জন্য জীবন দিতে পারে। অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও আওয়ামীলীগ নামধারী কিছু নেতা নুর মোস্তফা টিনুর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যুবলীগের আগামী কমিটি থেকে পদ বঞ্চিত করার জন্য ওরা নুর মোস্তফা টিনুর বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছে।
প্রিয় নেত্রী, আমরা চাই সেই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন হোক।
প্রিয় নেত্রী, আপনি একান্তই টিনুর রাজনৈতিক জীবনের রিপোর্ট নিয়ে দেখুন, এনএসআই রিপোর্ট দেখুন, চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসনের রিপোর্ট দেখুন, যদি তারা নিরপেক্ষ রিপোর্ট প্রদান করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে এটাই প্রমানিত হবে যে, যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু আসলেই সংগঠন প্রেমী, মুজিব আদর্শের একজন ত্যাগী কর্মী।
প্রিয় নেত্রী, ওমরগণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সবুজ ক্যাম্পাস থেকে বেড়ে উঠা রাজপথ কাঁপানো সাবেক ছাত্রনেতা, ছাত্র-যুব সমাজের নয়নমনি নুর মোস্তফা টিনু কখনো পদ পদবীর জন্য রাজনীতি করেননি, এমনকি পদ পদবীর জন্য কারো কাছে কোনো তদবীরও কেনোদিন করেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে দেশরত্ন প্রিয় নেত্রী আপনার লক্ষ্য পূরনে নিঃস্বার্থভাবে রাজপথে সংগ্রাম করে গেছেন এবং এখনো যাচ্ছেন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলের পক্ষে বীর চট্টলার চট্টলবীর মরহুম আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বিএসসি ঢাকা থেকে আগত বেগম মতিয়া চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সহ আরো অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে চট্টগ্রামের সিএন্ডবি, মোহরা, বহদ্দারহাটহাট, জিইসি, অলংকার মোড় সহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সভা সমাবেশ করেছিলেন, তখন চট্টলবীর মরহুম আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বিএসসির নির্দেশে চকবাজার থেকে নিজ খরচে ট্রাকে ট্রাকে কর্মী নিয়ে এইসব নির্বাচনী সভা সমাবেশে যোগদান করেছিলেন সংগঠন প্রেমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক নুর মোস্তফা টিনু। অথচ তখন আজকের সুবিধাবাদীরা কেউ ছিলোনা। সবাই তখন আত্মগোপনে ছিলো।

৯৬ এর নির্বাচনে চট্টলবীর মরহুম আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর আহবানে পুরো চকবাজার থেকে একমাত্র নুর মোস্তফা টিনু একজনই রাজপথে নেমেছিলেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা এবং দলের পক্ষে মিছিল মিটিং সহ নির্বাচনী সভা সমাবেশ করেছিলেন। জামাজ-শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট চকবাজারে জানের মায়া ত্যাগ করে একমাত্র নুর মোস্তফা টিনু দলের হয়ে কাজ করেছিলেন, প্রকাশ্যে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন। জামাত-শিবিরের আখড়া এই চকবাজার নুর মোস্তফা টিনু সর্বপ্রথম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই সত্য যখন আজ উঠে আসছে এবং চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে জামাত শিবির বিতাড়িত করে অত্র দুই কলেজে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঠিক তখনই দলে অনুপ্রবেশকারীদের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছেন নুর মোস্তফা টিনু।

প্রিয় নেত্রী মমতাময়ী মা, ক্ষমতায় অনেকেই ছিলেন, চকবাজারে অনেকেই নিজেদের বড় নেতা দাবি করে, চট্টগ্রাম মহানগরে নেতার অভাব নাই। কিন্তু কেউ চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ থেকে জামাত-শিবির বিতাড়িত করে অত্র দুই কলেজে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে কলেজ দুটি আপনাকে উপহার দিতে পারে নাই। একমাত্র নুর মোস্তফা টিনু চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে জামাত-শিবির বিতাড়িত করে কলেজ দুটি আপনাকে উপহার দিতে পেরেছেন। এবং চকবাজার, চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে দলের পক্ষে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে একজন অতন্দ্র প্রহরী হয়ে সর্বদা সচেতন ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন নুর মোস্তফা টিনু।
প্রিয় নেত্রী, চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ যখন দলের পক্ষে নুর মোস্তফা টিনু নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছিলেন, তখন আজকের সুবিধাবাদীরা, যারা নিজেদের বড় বড় নেতা পরিচয় দিচ্ছেন তারা নুর মোস্তফা টিনুকে কটুক্তি করে বলেছিলেন- “টিনুর পক্ষে সাত দিনও এই কলেজ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না, কলেজ গুলোতে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব বেশিদিন ঠিকবেনা। অথচ ২০১৫ থেকে আজ অবদি অত্র দুই কলেজে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব ঠিকে আছে, নুর মোস্তফা টিনুর নেতৃত্বে তার সৈনিকরা কলেজ গুলোতে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রেখেছে। এবং এই কলেজ গুলোতে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য শারীরিক, মানসিক, আর্থিক সব রকমের ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন নুর মোস্তফা টিনু। যারা কলেজ গুলোতে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে নুর মোস্তফা টিনুকে কটুক্তি করেছিলেন, তাদের ধারনা যখন মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই নুর মোস্তফা টিনুর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী, যারা চকবাজারে নিজেদের বড় নেতা আর সমাজসেবক দাবী করেন, তারা জামাত-শিবিরের সাথে সিন্ডিকেট করে দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানকে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ রাতে র্যাব দিয়ে নুর মোস্তফা টিনুকে গ্রেফতার করিয়ে অস্ত্র আইনে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে টিনুকে অনেক আইনি হয়রানি আর নির্যাতনের পরে কারাগারে প্রেরন করা হয়। সেই থেকে আজ অবদি নুর মোস্তফা টিনু কারাবন্দী।
প্রিয় নেত্রী, টিনুকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর পর চকবাজারে দলের পক্ষে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো মিছিল সমাবেশ করেনি, আপনার জন্মদিন পালন করেনি, বিজয় র্যালী কেউ করেনি। টিনুর অনুসারী আমরা যারা আপনার জন্মদিন পালন করতে চেয়েছি, বিজয় র্যালী করতে চেয়েছি, আমাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে, আমাদেরকে মারধর করা হয়েছে। প্রিয় নেত্রী দুঃখের সাথে বলতে হয়, টিনুকে কারাগারে পাঠানোর পর জামাত-শিবির চকবাজারে আনন্দ মিছিল করেছে। শিবিরের এই মিছিল কেউ ঠেকাতে পারেনি। কারন, চকবাজার নামধারী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ যারা আছেন, তাদের অধিকাংশই জামাত-শিবিরের সাথে আঁতাতকারী। জামাত-শিবিরের টাকার কাছে তারা বিক্রি হয়ে গেছেন। তারা আপনাকে, প্রিয় সংগঠন আওয়ামীলীগকে স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। এইসবের বিরুদ্ধে চকবাজারে একমাত্র প্রতিবাদী কন্ঠস্বর যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু। আর তাই টিনু সবার কাছে চক্ষুশূল। এইসব সুবিধাবাধী অনুপ্রবেশকারীরা প্রতিনিয়ত টিনুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
প্রাণ প্রিয় নেত্রী মমতাময়ী মা, শুধু চকবাজারের নুর মোস্তফা টিনু নয়, প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন সহ সারাদেশে এমন অনেক অবহেলিত টিনু আছে, যারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ভাবে দলে সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা নানা রকম ষড়যন্ত্রের স্বীকার হচ্ছেন। প্রিয় নেত্রী, ষড়যন্ত্রকারীদের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়তই প্রকৃত সত্যটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।
প্রাণপ্রিয় নেত্রী, নুর মোস্তফা টিনুদের মতো কর্মীরা পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করেনা, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীর জন্য রাজনীতি করেনা, এরা রাজনীতি করে আওয়ামিলীগের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখার জন্য, এরা রাজনীতি করে শুধু মাত্র আপনাকে ভালোবেসে আপনার জন্য।
প্রিয় মমতাময়ী মা, আপনার কাছে আকুল আবেদন, আপনি দেখুন, আপনি তদন্ত করুন, আপনি ব্যবস্থা গ্রহন করুন যেনো আপনার দলের নুর মোস্তফা টিনুদের মতো কর্মীরা হারিয়ে না যায়। কারন, চলমান শুদ্ধি অভিযানকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল। এরা দেখে দেখে আপনার রাজপথের প্রকৃত ত্যাগী কর্মীদেরই নিধন করছেন। প্রিয় নেত্রী, দলের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখার জন্য দলের ত্যাগী কর্মীদের খুবই প্রয়োজন।

প্রিয় নেত্রী, দলে অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে আপনার কর্মী গুলো যখন কারাগারে যায়, তখন কারাগারের ভিতরে তাদের দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়। কারাগারের ভিতরে জামাত-শিবিরের নেতা কর্মীদের জামাত-শিবিরের সংগঠন থেকে দেখভাল করা হয়, বিএনপি নেতা কর্মীদের বিএনপির সংগঠন থেকে দেখভাল করা হয়, কিন্তু আওয়ামিলীগের কর্মী গুলোকে সংগঠন থেকে কারাগারে কোনো সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়না। অথচ, আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় থাকার পরেও কারাগারের ভিতরে বিএনপি, জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পায়, আর আওয়ামিলীগের কর্মীরা কারাগারে দুর্বিষহ জীবন যাপন করে। আওয়ামিলীগের কর্মীদের কারাগারের ভিতরে সাংগঠনিকভাবে কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে দেওয়া হয়না। চট্টগ্রাম কারাগারের অভ্যন্তরীন অনিয়ম, এবং কারাগারের ভিতরে বিএনপি, জামাত-শিবিরের আদিপত্য বিস্তারের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রিয় নেত্রী আপনার কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
১/১১ এর পরীক্ষিত সৈনিক, ২০০১ ও ২০০৩ সালে জোট সরকারের হাতে স্বপরিবারে নির্মমভাবে নির্যাতিত এবং মামলা হামলায় কারা নির্যাতিত রাজপথের ত্যাগী কর্মী নুর মোস্তফা টিনু গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং থেকে আজ অবদি মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। আজ নুর মোস্তফা টিনু ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। আদালতে তার বিচার কার্যক্রম নিয়ে করা হচ্ছে নানান তাল-বাহানা। সংগঠনের পিছনে নিজের জীবন-যৌবন বিলিয়ে দেওয়া নুর মোস্তফা টিনুর প্রতি কেনো এই অবিচার??? প্রিয় নেত্রী, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা থেকে নুর মোস্তফা টিনুকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আপনার নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি। একজন মুজিব সৈনিক কারাগারে বন্দি থাকা মানে দলের অপূরনীয় ক্ষতি।
প্রিয় নেত্রী, আমরা আপনার কাছে রাজপথের হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা নুর মোস্তফা টিনুকে রাজপথে ফেরত চাই। কারন, চট্টগ্রামের পিচঢালা রাজপথেই জয় বাংলার জয় বঙ্গবন্ধুর স্লোগানে নুর মোস্তফা টিনুকে বেশি মানায়। প্রিয় নেত্রী, আপনি ছাড়া আমাদের অন্য কোনো অভিভাবক নাই। তাই আপনার হস্তক্ষেপ আমাদের একান্ত কাম্য।
প্রিয় নেত্রী, মুজিব আদর্শের প্রকৃত ত্যাগী কর্মী নুর মোস্তফা টিনুকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আগামী কমিটিতে দলে তার অবদানের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাই।
প্রিয় নেত্রী, নুর মোস্তফা টিনু একজন আদর্শবান সাবেক ছাত্রনেতা, যার রাজনৈতিক জীবনে মিশে আছে চট্টগ্রামের আরেক খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও মহাপুরুষ চট্টগ্রামের চট্টলবীর মরহুম আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বিএসসির আদর্শ আর শিক্ষা দীক্ষা। নুর মোস্তফা টিনু দলের জন্য সম্পত্তি নয়, নুর মোস্তফা টিনু দলের জন্য সম্পদ। কাজেই নুর মোস্তফা টিনু মুজিব আদর্শের সেই আপোষহীন সৈনিক, যার উপর প্রিয় নেত্রী আপনি নিঃসন্দেহে আস্থা রাখতে পারেন।

নিবেদক
নুর মোস্তফা টিনু
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com