Logo

পেকুয়ায় আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কারের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

পেকুয়া উপজেলা প্রতিনিধি / ১১০ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

পেকুয়া উপজেলা প্রতিনিধিঃকক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মাধ্যমে সারাদেশের উপকূলীয় এলাকার ৮৪টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৮৯ টাকা বরাদ্দ দেয়। এতে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কারের কার্যাদেশ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজল এন্ড ব্রাদার্স ও সীমা কনস্ট্রাকশন। এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ লাখ টাকা ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কার্যাদেশের মেয়াদ ও অর্থ বছর শেষ হয়ে গেলেও জালিয়া পাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের সংস্কারকাজ হয়নি। সংস্কারকাজে ব্যয় না হওয়া এসব টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত যাওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তা ফেরত যায়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাই আমরা মনে করছি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার এ সংস্কারকাজের পুরো অর্থ আত্মসাত করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৯২ সালে উজানটিয়া ইউনিয়নের স্থাপিত জালিয়া পাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বর্তমানে অবস্থা খুবই নাজুক। আশ্রয়ণ কেন্দ্রের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পিলারের কনক্রিট আবরণ ভেঙে ভেতরের লোহা দেখা যাচ্ছে। পুরো অবকাঠামো জুড়ে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। ভেঙে গেছে দরজা, জানালা। দ্বিতল এ ভবনে ঠিক নেই পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। বর্তমানে এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় মুরগীর খামার গড়েছেন রহিম উদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা আবছার হাসান বলেন, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পরবর্তী উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জানমালের ঝুঁকি কমাতে এ আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। দুর্যোগকালীন সময়ে এ আশ্রয়ণ কেন্দ্র উপকূলের বাসিন্দাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে বর্তমানে এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে মানুষ থাকা দায়। নির্মাণ পরবর্তী এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কোন সংস্কার হয়নি। তাই এটির সংস্কার অতীব জরুরি।

উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য পারভীন আক্তার বলেন, জালিয়া পাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের সংস্কারের জন্য সরকারী অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও সংস্কারকাজ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে এর পেছনের কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার জয়নাল উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয় আসবে কেন, সংস্কারকাজ তো চলমান রয়েছে। কার্যাদেশের মেয়াদ ও অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও ঠিকাদারকে কাজের বিল দেয়া হয়নি। কাজ করে তারা টাকা নেবে।

কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, উজানটিয়া ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কারকাজ একটু দেরীতে হলেও যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে বলে পেকুয়ার পিআইও আমাকে জানিয়েছে। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ লাখ টাকা ‘ডিডি কেটে’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রাখা হয়েছে। তারপরেও কাজ না হলে আমাকে জানাবেন। আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত বলেন, ডিডি কেটে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। সংস্কারকাজের বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো। কোন অনিয়ম খুঁজে পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com