Logo
শিরেোনাম ::
ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে পবিপ্রবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত প্রবাসী ছোট ভাই কে না পেয়ে বড় ভাই কে মারধর ও হত্যার হুমকি তানোরে লক্ষিত সুফলভোগী মানুষের মাঝে ৫৮ টি বকনা গরু বিতরণ কোছাক কতৃক সাহিত্য প্রকাশনা “স্বপ্ন” ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন উদ্বোধন করেন এড. মাহফুজুর রহমান ডুয়েট সিএসই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নং ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির মৃত্যু প্রবাসীর স্ত্রীকে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর প্রাননাশের হুমকি কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাসের বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আব্বাস আলীকে গ্রেপ্তারের দাবি রাসিক কাউন্সিলরবৃন্দের ডুয়েটে শহীদ মোস্তফা এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের উদ্বোধন

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি এবং চলমান বিতর্ক, প্রকৌ. বেনজীর আহমেদ

রিপোর্টারের নাম / ৮৮৭ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি এবং চলমান বিতর্ক

লেখকঃ প্রকৌ: বেনজীর আহমেদ সহকারী প্রকৌশলী, প্রকৌশল অফিস, ডুয়েট

কিছুদিন আগে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নসংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, অনেক ব্যক্তির হয়তো প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা আছে কিন্তু তার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সার্টিফিকেট নাই এবং সার্টিফিকেট না থাকার কারণে ভালো চাকরি পাচ্ছেন না অথবা চাকরি পেলেও ভালো বেতন পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যদি চান এবং যদি তার প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা থাকে, তাহলে তিনি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। একই মিটিংয়ে তিনি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে ছেলেদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫, মেয়েদের ক্ষেত্রে জিপিএ ৩ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ২৫ করার সিদ্ধান্ত দেন। তিনি সভায় ভর্তি ফি কমানোর ব্যাপারেও কথা বলেন। (তথ্য সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ০২ জুলাই ২০২০)

উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে পলিটেকনিকে অধ্যয়ণরত কিংবা প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রুপগুলোতে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ বলছেন দাদা ও নাতি একসাথে পড়াশোনা করবে। যাই হোক মূল কথায় আসি, গত ৩০/০৬/২০২০ তারিখে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাজীবি সংঘঠন আইডিইবি থেকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেছেন যেখানে উল্লেখ রয়েছে সরকারী পলিটেকনিকে ভর্তির ক্ষেত্রে:
ক. পূর্বে ছেলেদের এস.এস.সিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এর স্থলে বর্তমানে ২.২৫; গণিতে ৩.০ এর স্থলে বর্তমানে ২.৫০,
খ. পূর্বে মেয়েদের এস.এস.সিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০ এর স্থলে বর্তমানে ২.০০; গণিতে ৩.০ এর স্থলে বর্তমানে ২.২৫,
গ. পূর্বে ২০১৮-২০১৯-২০২০ এ অর্থাৎ ৩ বছরের পরিবর্তে ২০১৭-২০১৮-২০১৯-২০২০ এ অর্থাৎ ৪ বছরে পাস করা শিক্ষার্থীরা যোগ্য হবেন।

আইডিইবি উক্ত বিষয়গুলোকে আত্নঘাতি, অমর্যাদাকর এবং ইহা বাস্তবায়ন হলে সমাজে সরকারি পলিটেকনিক এর মান নিয়ে বিরুপ মনোভাব সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করেন এবং বিটিইবির ভর্তি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার অনুরোধ জানান। এখানে উল্লেখ্য যে, টিএমইডির কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বয়সসীমা ও জিপিএ এর ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের টকশোতে কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের চেয়্যারম্যান বলেন, গত বছর প্রায় পাঁচ হাজার আসন খালি ছিল এবং করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশ ফেরত সহ অনেকেই বেকার হয়ে পড়ছে বলে তাদের জন্য জিপিএ কমিয়ে আনা এবং যেকোন বয়সের ব্যাক্তিরাই যোগ্যতা সাপেক্ষে ভর্তি হবে পারবে। ফলে একটি ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে সাধারন জনগনের মধ্যে। ধরে নিলাম পূর্বের চেয়ে কম জিপিএ ওয়ালা যেকোন বয়সের লোকই ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আসলেই কি তারা ভর্তি হতে পারবেন? যদি ভর্তি হতে পারেও তাহলেই কি তারা সরকারী চাকুরীর জন্য আবেদন করতে পারবে? সরকারী চাকুরীতে এখন পর্যন্ত অনধিক বয়সসীমা ৩০ বছর। যদি উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চান অর্থাৎ সরকারী ভার্সিটি হতে বি.এস.সি ডিগ্রি নিতে চান তাহলেও আটকে যাবেন জিপিএ এর মারপ্যাচে। কারন ডিপ্লোমা প্রকৌশলিীদের একমাত্র সরকারী ভার্সিটি ডুয়েটেও (অন্যান্য আরও কয়েকটা ভার্সিটিতে সুযোগ থাকলেও চান্সের হার খুবই কম) গত বছর ভর্তি পরীক্ষায় এস.এস.সিতে সর্বনিম্ন জিপিএ চাওয়া হয়েছিল ৩.০ ।
করোনা পরিস্থিতে বেকার জনগোষ্টীকে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হলে বিভিন্ন ধরনের ছয় মাস/এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। এতে তারা হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ সেবায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
বাংলাদেশের পলিটেকনিক সমূহ একটি মধ্যম মানের প্রকৌশলী তৈরির প্লাটফর্ম। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা সরকারের বৃহৎ বৃহৎ প্রকল্পে কাজ করে দেশ সেবায় অংশগ্রহন করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ভিশন -২০৪১ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য কর্মক্ষেত্রে কাজ করছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। তাই ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা শিথিল না করে আরও যুগোপযোগী করার জন্য ইংরেজীর উপর জোড় দেয়া, ভর্তিতে ঐ বছর সহ এস.এস.সির পর তিনবার সুযোগ দেয়া (পরবর্তীতে দুইবার), সর্বনিম্ন জিপিএ ৩.৫০ (ছেলে) এবং ৩.০০ (মেয়ে) সহ নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

লেখক-
প্রকৌ. বেনজীর আহমেদ
সহকারী প্রকৌশলী, প্রকৌশল অফিস, ডুয়েট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
P