Logo
শিরেোনাম ::
ডুয়েট ছাত্রলীগ এর প্রচার সম্পাদকের চিকিৎসা বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চকবাজার ওয়ার্ড উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলেন যারা তানোরে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স প্রদান BYFHA আয়োজিত Dengue Fever Eradication Campaign 2021 মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে অস্বচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ কোম্পানীগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি হলেন চেরাগ আলী ছাত্রলীগের উপর হামলা করায় অবশেষে প্রায় এক বছর পর যুবলীগ নেতা মঞ্জুর(৪০) গ্রেপ্তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাওয়ায় খুন শাহজাদপুরে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বপন এমপি আবারও অবরুদ্ধ বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য

কবিতাঃ- অতৃপ্তির গল্প

মোঃ রিয়াদ আহমদ , বার্তা সম্পাদক / ১৭১ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

লেখকঃ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

কেউ আশেপাশে ছিলোনা |
শুধু একজন ছিল, নিজের ছায়া |
তবে এখন নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস হয়না |
শুনেছি নিজের ছায়ারা নাকি
এখন আত্মঘাতী হয়েছে |

একদিন স্বপ্নে একটা বিচার দেখলাম |
সেখানে একজন সৎ মানুষকে জেলে
যেতে দেখলাম আর অসৎ মানুষকে স্বর্গে |
ঘুম থেকে যখন জেগে উঠলাম
তখন দেখলাম একজন পন্ডিত ব্যক্তি
আমাদের বাসায় এসেছেন |
তিনি বলছিলেন সৎ লোকটাকে
জেলে পাঠানো হয়েছিল চোরদের
ভালো করতে আর অসৎ
মানুষটাকে স্বর্গে পাঠানো হয়েছে
এই ভেবে যে পৃথিবীতে সে যদি
ভালো কাজ করতো তবে
এটাই তার জায়গা হতো |
নরকে যেতে হতোনা |
তবে পন্ডিত ব্যক্তিটা কে ছিল তা
এখনও জানিনা তবে শুনলাম
তিনি স্বর্গ থেকে পৃথিবী
নামক নরকে এসেছেন |

একে একে লোকটার সবাই মারা গেলো |
এখনও সে একা বেঁচে আছে
নিজের মৃত্যুকে দেখবে বলে |
কিন্তু সেটা আর দেখা হয়ে উঠেনি |


একদিন মনটা মরে গেলো
একটা সাদা কফিনে বহন করা খুব কঠিন হলো
কারণ সেটা একদিন মানুষের মন ছিল
এখন পাথরের মন হয়ে গেছে
একদিন মনটা জলীয় বাস্প ছিল
এখন বরফ হয়ে গেছে |

তখনও আমি জানতাম না আমি মরে গেছি
যখন জানলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে
এম্বুলেন্সটা তখনও মৃতদেহ নিয়ে ছুটছিল
আমি মরেছি ! হয়তো
চোখ খোলা বোবা মুখ
দেখছিলাম মানুষ আর মানুষ আর নিস্তব্ধ জীবন
তখনও জানিনা
আমার বিবেক মরেছে
নাকি পৃথিবীর সব মানুষের মৃত্যু হয়েছে
নাকি সবার বিবেকের মৃত্যু হয়েছে
নরকে গিয়ে জানলাম মহাপ্রলয় হয়েছে
কিন্তু স্বর্গের খোঁজ এখনও পাইনি |

মা ভাবছিলো
সন্তান তার গর্ভে
বেরিয়ে আসবে সময় যত গড়াবে
মা, মা ডাক শুনে গর্বিত হবে মায়ের অন্তর
নরম দুটো হাত ছড়াবে মায়াবী আদর
কিন্তু যা বেরিয়ে এলো তা মানব সন্তান ছিলোনা
তা ছিল জমাট বাধা পাহাড়ের মতো মাংসপিন্ড
নামটা খুব পরিচিত মনে হলো “টিউমার”
ক্যান্সার আক্রান্ত
সে মাকে এখনও দুরন্ত রাস্তার অলিতে গলিতে বুভুক্ষের মতো খুঁজছি
সে বেঁচে আছে কিনা জানিনা কিন্তু
এখনো জানার চেষ্টা করছি সে মা হতে
পেরেছিলো কিনা
তার মা না হবার যন্ত্রনা বেশি কঠিন ছিল
নাকি তার মরণঘাতী ব্যাধি
একটা খামে চিঠি পাঠিয়েছি আকাশে
এখনো বসে আছি ফিরতি চিঠির খবরের অপেক্ষায় |

যতদিন আমি বেঁচে ছিলাম
মানুষ আমাকে নিয়ে জোকারের মতো খেলেছে
জুয়ার তাস বানিয়ে কড়কড়ে নতুন টাকার গন্ধ শুঁকেছে
আমি মারা যাবার পর
এখন আমি মহানায়ক হয়েছি
ভিন্ন জগতে আমার দাপটে ভূমিকম্প ঘটে যায়
যারা আমায় নিয়ে একদিন খেলেছিল
তাদের মৃত দেহগুলো সনাক্ত করলাম আমি
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে
এখন তারাই জোকার হয়েছে
প্রতিদিন ছারপোকার কামড়ে যখন তাদের মৃত রক্ত কাঁদে
তখন ইথারে ভেসে আসে তাদের আর্তনাদ আর অনুসূচনা
আমাদের পাপের ফল আমরা ভোগ করছি
কিন্তু কবে মুক্তি পাবো তা এখনো জানিনা |

লাশকাটা ঘরের এক কোণে দীর্ঘ সময় ধরে
মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলাম
আমার খুব চেনা একটা লোকের অপঘাতে মৃত্যু হয়েছিল
ময়না তদন্তের জন্য ডাক্তার মর্গে গেলো
দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে অপক্ষা করছি
ময়না তদন্তের রিপোর্টের জন্য
কিন্তু ডাক্তার সেই যে ঢুকেছে আর বের হয়ে আসেনি
তবে আজ আমার দিকে তাকালাম
আমার কংকালটা ছিল
কিন্তু দেহে কোনো স্পন্দন ছিলোনা
এখন ভাবছি আমার চেনা লোকটা আমি ছিলাম
না অন্য কেউ |

একটা দোকান থেকে ছেলেটা শখ করে
একটা ঘড়ি কিনেছিলো
ঘড়িটা অদ্ভুত ছিল
সেখানে সময়, ঘন্টা, মিনিটের কাটা ছিলোনা
কোনো ডিজিটাল ডিসপ্লেও ছিলোনা
কিন্তু একটা জিনিস ছিল যা ঘড়িটাকে
অন্য ঘড়ি থেকে আলাদা করেছিল
তা হলো
ঘড়িটার মালিক এক সময়ের অত্যাচারী রাজার ছিল
একদিন এক চোর ঘড়িটা চুরি করেছিল
চোরটা ধরা পড়লে তার যখন হাত পা কাটা হচ্ছিলো
তখন ঘড়ির কাঁটাগুলোও ভেঙে পড়েছিল
এখনো চোরটা বেঁচে আছে
সে এখন ঘড়ির কাটা দিয়ে নিজের হাত পা বানিয়ে শহরে শহরে ঘুরছে
আর রাজার কোনো খোঁজ এখনো মেলেনি |

১০

রাতের সাথে দিনের কোনোদিন দেখা হয়নি
কিন্তু দুজন দুজনকে দেখার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে
আজ তাদের দেখা হলো কিন্তু কেউ কাউকে দেখতে পেলোনা
কারণ রাত আর দিন রোড একসিডেন্টে চিরদিনের মতো
চোখ হারিয়েছিল
এখন রাতও কাঁদেনা দিনও হাসেনা
কিন্তু তাদের ছেলে মেয়ে দুটো হাসে আর হাসে
মেয়েটার নাম রেখেছে চাঁদ
আর ছেলেটার নাম রেখেছে সূর্য
তবে চাঁদ সূর্যও একে অন্যকে এখনও দেখেনি
হয়তো অন্য কোনো ভুবনে তাদের দেখা হতেও পারে
তবে ততো দিন পৃথিবী থাকবে কিনা কে জানে |

১১

আমি একটা নীল চাদর কিনেছিলাম
একদিন খুব বাতাসে আমার প্রিয় চাদরটা উড়ে গেলো
অনেক খুঁজলাম কিন্তু কোথাও পেলামনা
একদিন এক অপরাধীকে দেখলাম পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায়
নিয়ে যাচ্ছে
তার গায়ে চাদরটা দেখলাম
দৌড়ে চোরটার কাছে গেলাম
চাদরটা তার গা থেকে খুলতেই দেখলাম
সেখানে অনেকগুলো পাপী মানুষ
যারা আমাকে একদিন অপরাধ না করলেও পাপী বানিয়েছিলো
চাদরটা তাদের বিচার করেছে
কারণ চাদরের কোনো প্রাণ নেই মন নেই
মানুষের মন প্রাণ আছে বলে তা কখনো সঠিক
বিচার করতে পারেনা |

১২

আমার একটা বই ছিল |
খুব দুর্লভ, পৃথিবীর একটামাত্র বই |
কে, কখন লিখেছিলো কেউ জানেনা |
বইটা একদিন আগুনে পুড়ে গেলো |
কিন্তু বইয়ের ভিতরের জ্ঞান
এখনও আমার মধ্যে আছে |
ভাবছি বইটা লেখা শুরু করবো |
কিন্তু কাগজ আর কলম পাচ্ছিনা |
কম্পিউটারও নেই |
কারণ আমি এখন আদিম যুগে |

১৩

হঠাত করেই আগুনে পুড়ে গেলো
একটা শহর
কেউ আর বেঁচে নেই
বেঁচে আছে কিছু স্মৃতি, দুঃসহ ইতিহাস
আর আগুনে পোড়া গণকবর
এটা দিয়াশলায়ের আগুন ছিলোনা
এটা ছিল মানুষের মনের জিঘাংসার আগুন
তবে যারা হিংসে করেছিল আগুন তাদেরও
মৃত্যু থেকে নিস্তার দেয়নি
এখন সেখানে ভুত প্রেতাত্মাদের বসবাস
তবে কোথাই যেন শুনেছি সেখানে
আমার নতুন করে জন্ম নিচ্ছে
জীবন
যেটা অনেকদিন ঘুমন্ত ছিল নিঃশব্দে |

১৪

একজন মানুষ প্রতিদিন তার মুখকে
চেপে ধরে বন্ধ করে রাখতে চাইতো |
কারণ সে এমন সত্য জানতো সেটা
যদি তার মুখ থেকে বের হতো
তবে তাকে মেরে ফেলা হতো |
লোকটা মুখ বন্ধ রাখতে রাখতে
একদিন বোবা হয়ে গেলো |
এর পর সে চোখ বন্ধ রাখা শুরু
করলো কারণ মুখ বন্ধ হবার পর
তার চোখগুলো সত্যটা বলতে
মুখিয়ে উঠতো | এরপর একদিন লোকটা
অন্ধ হয়ে গেলো | কিন্তু এরপরও এমন
একটা কাজ লোকটা করেছিল যা
সবাই জানতো কিন্তু মুখ খুলতে পারতোনা |
চোখও খুলতে পারতোনা |
একদিন সবাই অন্ধ আর বোবা হয়ে গেলো |
যেদিন সবাই অন্ধ আর বোবা হলো হলো
সেদিন লোকটার মুখ খুলে গেলো,
চোখ খুলে গেলো | এখন সে কোথায়
তা কেউ জানেনা, জানে শুধু একজন |
কিন্তু তারও খোঁজ নেই |
যারা তাদের খুঁজবে তারাও হারিয়ে গেছে |

১৫

একজন লোক খুব গবেষণা করতো |
একদিন সে নিজেকে নিয়েই গবেষণা
শুরু করলো | গবেষণায় সে প্রমান করলো
যে আত্মার মৃত্যু বা ধ্বংস নেই তবে
এটি একরূপ থেকে আরেক রূপে
রূপান্তরিত হয় | এটির নাম সে দিলো
আত্মার নিত্যতা সূত্র | কথাটা প্রমান
করার জন্য সে আত্মহত্যা করলো |
এখন সবাই অপেক্ষা করছে
সে অন্য রূপে ফিরে আসে কিনা |


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com