Logo

লকডাউন নিয়ে সাধারনের ভাবনা

রিপোর্টারের নাম / ১৭৭ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

লকডাউনে নিয়ে সাধারণের ভাবনা – রুহুল কাদের মানিক। আজ কমবেশি ছয়মাস সময় ধরে নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হলাম। লকডাউনঃ শব্দটি আমার শহরে নতুন রুপ সাধারণ ছুটির নামে আবির্ভুত হয়েছিল। শুরুর দিকে তার জন্ম আচরন সফলতা বিফলতা নিয়ে রাত জেগে সুবিধাভোগী সুশীলদের বকবকনি শুনতে শুনতে কত রাত জেগেছি ! তার ফায়দা কি জানিনা । যত রাত জেগেছি তত মনে আগ্রহের জন্ম নিত । কখনো জানি আমার মনের কথা গুলি , এইসব পেঠুয়াদের মুখে মনের অজান্তে নির্গমন হয়। আবার প্রশ্ন হত তিনি চারজন চাকরের সেবা নিয়ে সংসার করেন তার মুখে আমার অধিকারের কথা উচ্চারিত হবে কি ? কখনো কখনো প্রশ্ন করতাম অমুক শ্রেণীর মানুষের দায়িত্ব কে নিবে ? আসলে বুঝতাম না । যে খানে যার দায় সে নিয়ে নিজের জাতির (পুলিশ -আর্মি – র্যাব – সাংবাদিক -ডাক্তার – ইন্জিনিয়ার) চিকিৎসাসহ সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাস্থ , সেখানে টম টম চালক , চা দোকানের শ্রমিক , পরিবহন শ্রমিক , ফুটপাতের ফুল বিক্রির শ্রমিক, শহীদ সরওয়ারদি উদ্দ্যানের হেটে হেটে চা বিক্রি করা সেই চাচার খবর নিবে ? এখন ত মদের নেশায় কেউ মাতাল হয় না । কে নিবে খবর সেই ক্করমচারীর , যে ঐ হোটেলে বয়গিরী করে সংসার চালাত । কার সময় অত যারা বার বার পুলিশের গাড়ি চডে ও পরের দিন পেটের দায়ে যৌন পল্লীর ভদ্র মানুষের আনন্দে মতওরা করতে নির্ঘুম রাত কাটাতে ব্যাস্থ থাকত । সৈকতের রুপের সঙ্গী চা কপি চটপটির হকারদের খবর কে নিবে । কে বলবে ঝিনুক মার্কেটগুলোতে কাজ করা সে সব শ্রমিকের খবর নিতে । গাড়ির শ্রমিক ,লরিরশ্রমিক , বাসের শ্রমিক , ট্রাকের শ্রমিকরা যেন হাসির পাত্র । কখনো সজ্ঞহীনভাবে তাদের তুলাধুনু করা হয়। গার্মেন্ট শ্রমিকরা এখনো তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারেনি বলে তাদের জীবনবাজি ধরে কাজ করতে হয়।তাদের জীবন চলে যায় শহরের ঝুবডি ঘরে কখন আগুনের লেলিহান শিখাঁ বা পাঁকা ভবনের চাঁদের নিঁচে । তাদের কথা কে বলবে ? গার্মেন্টস শ্রমিকের পক্ষে কথা বলতে নাকি মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কথা বলতে হয় । তাদের নেতাদের দালালী আচরন পরিবর্তন করে দেশের প্রচলিত নিয়মে আন্দোলন করে দাবি আদরের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে । বিদেশি প্রভুদের বিচার দেওয়া বন্ধ করতে হবে ।
যদি তা হত তবে আজ বংলাদেশ করোনার ঝুকিতে পডত না । সেদিন সাহস নিয়ে বলতে পরেনিই বলে আজ দেশ ধ্বসের দ্বারপ্রান্তে । শিক্ষিত ছেলেটা যে কয়টাকার চাকরি করে সংসার চালাত তার খবর কে নিবে ?

সাধারণ ছুটির পর্ব শেষ লাল হলুদ সবুজ হয়ে লকডাউনে বাংলাদেশ । ৬ মাসের মাথায় এখন লকডাউন মানে সবার কাছে পরিষ্কার বাইরে যাওয়া যাবেনা । সেখানে আমার প্রশ্ন আপনারা যখন লকডাউন ভাবেনায় বলেন । চারজন চাকরের দুজনের বাদ দিয়ে বহুতল ভবনের চাঁদ পরিষ্কার করার কথা ভাবছেন , ইন্টারনেট ব্যাবহার করে বহুপদের রান্নার কথা ভাবছেন । লুডু কেরামের মত খেলায় মতুয়ারা হয়ে সময় কাঁটাতে চান তখন কারো মনে পডে না এইঅট্টালিকার বিনির্মাণের শ্রমিকের কথা । রঙ্গ মেস্ত্রী সেদিন ভাল কর পুডিং করেনি বলে কত গাল দিয়ে মুখ খারাপ করলেন । সে এখন কোথায় ? এসি র কাজ করা লোকটি কি তার সংসার টানতে পারছে ? নদীগর্ভে ভেসে বেডানোর মৎস্যজীবীদের সংসার কি করে চলে ? কৃষিতে ভর্তুকি দিবেন । ব্যাবসায় প্রনোদনা তা কি আসলে হচ্ছে ।
এই সব কথা কে বলবে ? কে নিবে তাদের খবর । ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৫শতাংশ মানুষ নিয়ে পরিকল্পনা করে লকডাউনে গেলে কিছুই হবে না । সরকারকে বিব্রত করা ছাডা আর কিছু হবে না ।

রেড জোন করবেন , লকডাউনে যাবেন কোন পরিবারের কতজন আক্রান্ত তা জানবেন না । করোনার রোগীর গন্তব্যে কি স্ফষ্ট করবেন না , উপস্বর্গ নিয়ে পুরো দুনিয়া ঘুরে বেডাবে লকডাউন করে লাভ কি ? নমুনা দিয়ে রোগী মরে যায় , রিপোর্ট নিয়ে স্বজনরা দাপন সারায় তখন লকডাউনে গিয়ে লাভ কি ? শত শত কোটি টাকা ব্যায় করছেন ২০ লক্ষ্য টাকর আই সি ও করবেন না ৮ লক্ষ্য টাকার অক্সিজেন প্লান্ট করবেন না । একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য করোনা রোগী মৃত্যুর পর ৯০০০০ টাকা বিলদিবে চট্টগ্রাম গিয়ে । ৯০০০০ হাজার টাকা না থাকলে চট্টগ্রামের সার্জিস্কোপের ৩০ মিনিট থাকার দায়ে আওয়ামী লীগ নেতা জসিম কে আনা যেত না । ডালিম বাডী বাহার ছডা সদরের ২০০ গজের এই রোগী কে ৪৫ কি মি দুরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গিয়ে অক্সিজেন নিতে হলে লকডাউনে গিয়ে লাভ কি ? লকডাউন করলেন সুস্থদের জন্য কিন্তু অসুস্থ হলে কোথায় যাব তা নিশ্চিত করতে না পারলে কিসের লকডাউন।

লকডাউন কতদিন ? সারজাবন ! তা কি সম্ভব । যদি তা না হয় তবে কেন বলছি না । লকডাউনে গেলে উল্লেখ্য বিষয়ে নজর দিতে হবে । এই শ্রেণীর খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে । লকডাউন এলাকাগুলোয় রোগীর চিকিৎসাসহ সকল সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে । পরীক্ষার ব্যাবস্থা করতে হবে । পরীক্ষার রিপোর্টের জট কাটিয়ে প্রতিদিন ই রিপোর্ট পাওয়ার ব্যাবস্থা করতে হবে । রোগী তাদের আত্মীয় পরিজন কে কন্টাক্ট ট্রেসিং করতে হবে তাদেরকে পরীক্ষা করে ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে । লকডাউন এলাকার গাডী চলে না কিন্তু ১০ গজ দুরে সকল প্রকার যানবাহন চলছে । সে সব যানবাহনের লোক গুলি কোথায় যাচ্ছে । তাদের সম্পর্কে করণীয় কি তা নিশ্চিত করতে হবে । লকডাউনের স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে অসহায় গৃহকত্র্রী দুই কেজি চাল , কটা আলু , পাঁচ টাকার শাক নিয়ে রিক্সা চডা না চডা নিয়ে অকট্য ভাষায় গালাগালি করবে , রিক্সা শ্রমিক আর স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে লাঠালাঠি হবে এমন লকডাউনে কি হবে ? জানিনা ঐ লাঠালাঠির কোন গ্রপের করোনার উপস্বর্গ ছিল কি না । লকডাউনে কে কি করল তা নিয়ে ট্রল করবে , গুটিকজন প্রসাশনের গিফ্ট পাবে তা সাধারণের নজরে পডলে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলবে আমরা চিকিৎসা পাচ্ছি না অমুক সরকারী খাবার সহ সকল সুবিধা ভোগ করছে ।
আসল কথা হচ্ছে সুষম বন্টন নীতি এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন সহ উল্লেখ্য বিষয়াদি নজর না নিয়ে লকডাউন বা লাল -হলুদ -সবুজের কোন ফল আসবে না ।

রুহুল কাদের মানিক ।
ব্যুরোর প্রধান ।
ককসবাজার ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com