Logo
শিরেোনাম ::
ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে পবিপ্রবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত প্রবাসী ছোট ভাই কে না পেয়ে বড় ভাই কে মারধর ও হত্যার হুমকি তানোরে লক্ষিত সুফলভোগী মানুষের মাঝে ৫৮ টি বকনা গরু বিতরণ কোছাক কতৃক সাহিত্য প্রকাশনা “স্বপ্ন” ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন উদ্বোধন করেন এড. মাহফুজুর রহমান ডুয়েট সিএসই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নং ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির মৃত্যু প্রবাসীর স্ত্রীকে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর প্রাননাশের হুমকি কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাসের বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আব্বাস আলীকে গ্রেপ্তারের দাবি রাসিক কাউন্সিলরবৃন্দের ডুয়েটে শহীদ মোস্তফা এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের উদ্বোধন

করোনা যোদ্ধা এক মানবিক বিচারকের গল্প

আল আমিন আল বোখারী / ৩৭৬ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ সিনিয়র সহকারী জজ উমা ঘর বেধেছিলেন ডা. দেবাশীষের সাথে। নিজে বিচারক বিয়ে করেছিলেন একজন চিকিৎসককে, ইচ্ছা হয়তো ছিলো সেবা ধর্মের। বিচার বঞ্চিতের জন্য ন্যায়বিচার, অন্যদিকে অসহায়দের ডাক্তারি সেবা। ভালোই চলছিলো উমা দেবাশীষের সংসার -কোল জুড়ে এসেছিলো এক ফুটফুটে সন্তান। হঠাৎ করেই উমার সংসারে হানা দিলো সর্বনাশা করোনা। মানব সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক স্বামী হার মানলেন করোনার কাছে। স্বামীকে হারিয়ে নতুনভাবে চিনলেন আপনার আপন জনকে। চেনা জগৎটাই অচেনা হয়ে উঠলো। আড়াই বছরের অবুঝ সন্তান অন্যদিকে হাসপাতালের মর্গে স্বামীর মরদেহ। উমার পায়ের নীচে মাটি না থাকলেও শক্ত ভিত্তির উপর নিজেকে দাড় করালেন। একা এবং একাই আয়োজন করলেন স্বামীর শেষ যাত্রার, বাড়ি থেকে শিশু পুত্রের হাত ছুইয়ে পাটকাঠী সাথে নিয়ে আসলেন শহরের শশ্বান ঘাটে, শাস্ত্রমতে পুত্র সন্তানেরই যে দায়িত্ব পিতার মুখাগ্নিতে।একাই নিরবে নিথরে নির্জন শশ্বানভুমিতে অপেক্ষা করলেন উমাদেবী, কিছুক্ষনের মধ্যেই মৃতদেহ আসলো শশ্বানে, যে কয়জন মৃতদেহ নিয়ে এসেছিলো তাদের সাহায্যেই স্বামীর সৎকারের কাজ শুরু করলেন। উমা ভালোভাবেই বুঝেছিলেন নিজেদের বিপদকে উপেক্ষা করে যারা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসে, তারাই প্রকৃত মানুষ। তাদের জাতের প্রয়োজন হয় না। পুত্রসন্তানের হাতের ছোয়া কাঠিতে মুখাগ্নি করলেন স্বামীর। ঘন্টা তিনেক স্থির হয়ে দাড়িয়ে রইলেন জলন্ত শশ্বানের দিকে তাকিয়ে। একাই এসেছিলেন উমাদেবী শশ্বানভুমিতে, চিতার আগুনে স্বামীর দেহ বিলীন করে দিয়ে একাই নিজে নিজের কপালের সিদুর মুছলেন, নিজেই ভেংগে ফেললেন নিজের হাতের মংগল শাখা, বিধবা বেশে একাই রওনা দিলেন বাড়ির পথে। সে জানে বাড়িতে কেউ নেই আজ, শুধু আড়াই বছরের সন্তান।

ভালো থাকুক উমা, ভালো থাকুক তার শিশুটি।
আপনাকে/আমাকে সেবা দিতে গিয়ে অনেক উমায় বিধবা হবে, অনেক সন্তানই পিতাকে হারাবে, মা হারাবে সন্তানকে।
তাদেরকে যেন আমরা মনে রাখি ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
P