Logo
শিরেোনাম ::
মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ সিলেট বিভাগীয় কমিটি গঠ কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে ভেজাল বিটুমিন তৈরি কারখানায় অভিযান মালিক সহ ২জনকে কারাদন্ড এ্যাডভোকেট এ এম মোয়াজ্জেম হোসেন’র মৃত্যু বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদন পটিয়া জিরি ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে কেন্দ্রীয় নেতা বদিউল আলম প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক ও জলজ জীবনের সবচেয়ে বড় হুমকি কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর বাজারে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা উদ্বোধন কবিতাঃ “একটি স্বচ্ছ হৃদয়” ডুয়েট উপাচার্যের সাথে ‘করিমগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুল’ এর প্রতিনিধিবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘করিমগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুল’ এর পক্ষ থেকে ডুয়েট উপাচার্যকে মাস্ক উপহার কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে আন্তঃজেলা গ্রিলকাটা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার ।

আমিনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে দূর্নীতি আড়ালের চেষ্টা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের

রিপোর্টারের নাম / ২০০ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

ডেস্ক প্রতিবেদনঃ  কে এন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ক্রয়ে সাম্প্রতিক জালিয়াতিতে ঔষধ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা দূর্নীতির আশ্রয় নিলেও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বেঁচে যাবার চেস্টা করছে একটি চক্র। সরকারী ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী কার্যাদেশ দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সনদ যাচাই করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত ১৮ মে মেসার্স এলান কর্পোরেশনের অনুকূলে দেয়া একটি কার্যাদেশের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা উৎপাদনকারির দেয়া সনদ যাচাই না করেই অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়।

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিষ্ঠানটি মালিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলাও করা হয় তড়িগড়ি করে। নিম্নমানের ৫০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানি করতে গিয়ে প্রতারণা ও ভুয়া কাগজ ব্যবহারের অভিযোগে মহাখালী ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদি হয়ে এলান কর্পোরেশনের আমিনুল ইসলাম আমিনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। গত ২৯ মে রাজধানীর বনানী থানায় ৪৬৮, ৪৭১ ও ১৯৮ ধারার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

এলান করপোরেশনের লাইসেন্স ব্যবহার করে এসব মাস্কের আমদানিকারক ঢাকার হাজারীবাগের তাজুল ইসলাম ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমীন প্রতিবেদককে বলেন, দুটি মামলা হয়েছে। একটি হয়েছে বনানী থানায়। আরেকটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয় ফ্রি সেল সাটিফিকেট যা কেএন -৯৫ মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজেই ইসু করেছে। প্রকৃতপক্ষে ড্রাগ রেগুরেটরি এসব সার্টিফিকেট ইস্যু করে থাকে।

কিন্তু ওষধপ্রশাসন অধিদপ্তর বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা সনদ কেন যাচাই করেনি এমন প্রশ্নের কোন উত্তর নেই দপ্তরটির কর্মকর্তাদের।

নীতিমালা অনুযায়ী সনদ যাচাইয়ের দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হলেও এলান কর্পোরেশনের বিরোদ্ধে মামলা করে দায় এড়ানো চেস্টা করেছে দপ্তরটি।

ছবিঃ অঙ্গীকারনামা দলিল

জানতে চাইলে এনাল কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্টানটি তার হলেও জনৈক তাজুল ইসলাম একটি চুক্তির মাধ্যমে তার লাইসেন্স ব্যবহার করেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ২৫ মার্চ সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী এলান কর্পোরেশনের লাইসেন্স একাজে ব্যবহৃত হয়। তাজুল ইসলাম আমার পরিচিত হলেও এ কাজের কার্যাদেশ প্রাপ্তি কিংবা আমদানী, সরবরাহ কোন অংশেই আমার সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। চুক্তিতে স্পস্ট করে লেখা আছে এই কাজের কোন দায় দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে না ‘।

এনাল কর্পোরেশনের নামে কার্যাদেশ দেয়া, দিনে দিনে যাচাই বাচাই না করে আমদানীর অনাপত্তিপত্র দেয়া ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের গাফিলতির পরিচয়। তাছাড়া Free sale, ISO 13485 certificate, সার্টিফিকেট অব এনালাইসিস এসব সনদ স্বাভাবিকভাবেই আমদানীকারকের কাছে বিদেশী সরবরাহকারী দিয়েছে। আমদানি কারক এসব সার্টিফিকেট জাল করে উপস্থাপন না করলেও তদারকিতে অস্বচ্চতা আড়াল করতেই আমদানি কারকের বিরোদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা।

মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আকতার হোসেনের কাছে পুরো প্রক্রিয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, প্রয়োজনীয় সনদ আসলে বিদেশী সরবরাহকারী প্রদান করে থাকেন। এক্ষেত্রে আমদানীকারক অনেক সময় প্রতারিত হন যদি জাল সনদ প্রদান করে। তবে সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট ঠিক আছে কিনা যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দফতরের। এছাড়া স্যাম্পল প্লেসমেন্টসহ বেশ কিছু দাপ রয়েছে। কিন্তু কোন কিছু যাচাই না করে আমদানীর পূর্বানুমতি প্রদানের দায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপর বর্তায়৷ ‘

চট্টগ্রামের একটি সুনামধন্য ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব আমরা প্রতিটি ধাপেই টের পাই। অরগানোগ্রাম অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হয়না। তেমনিভাবে তদারকি করা হয় না। কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়ে যোগসাজশের মাধ্যমে দুর্নীতি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওষুধের ফয়েল, ইনসার্ট, লেবেল, মোড়ক, ব্লকলিস্ট ও লিটারেচার অনুমোদন, ওষুধের দোকান তদারকি ও পরিদর্শনে কর্মকর্তারা ব্যাপক আর্থিক লেনদেন করেন, এটা সবাই জানে।

সাম্প্রতিকসময়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দূর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের বড় ধরনের অনিয়ম আড়াল করতে এলান কর্পোরেশনের বিরোদ্ধে মামলার বিষয়টি মিডিয়ার কাছে ছেড়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

ওষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, Free sale, ISO 13485 certificate, সার্টিফিকেট অব এনালাইসিস এসব যাচাই বাছাই তদারকির দায়িত্ব দপ্তরটি কখনোই করে না। ৫০ হাজার এন৯৫ মাস্ক তো কিছুই না। এই লাইসেন্স হয়তো আনিনুল ইসলামের সেজন্যই এতো প্রচারনা। ভেতরের খবর নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com