Logo
শিরেোনাম ::
করোনা রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাঃসবুজ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ সিলেট বিভাগীয় কমিটি গঠ কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে ভেজাল বিটুমিন তৈরি কারখানায় অভিযান মালিক সহ ২জনকে কারাদন্ড এ্যাডভোকেট এ এম মোয়াজ্জেম হোসেন’র মৃত্যু বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদন পটিয়া জিরি ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে কেন্দ্রীয় নেতা বদিউল আলম প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক ও জলজ জীবনের সবচেয়ে বড় হুমকি কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর বাজারে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা উদ্বোধন কবিতাঃ “একটি স্বচ্ছ হৃদয়” ডুয়েট উপাচার্যের সাথে ‘করিমগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুল’ এর প্রতিনিধিবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘করিমগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুল’ এর পক্ষ থেকে ডুয়েট উপাচার্যকে মাস্ক উপহার

রাজশাহীতে জমে উঠেছে আম-লিচুর বেচাকেনা

মোঃ বাপ্পী রহমান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি / ৭২ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : রাজশাহী উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এবছর আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাষীদের মতে গাছ থেকে অর্ধেক আম ও লিচু ঝরে গেলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে রাজশাহীতে ঝড়ে ১৫ শতাংশ আম ও লিচু ঝরে গেছে। সেই ক্ষতি নিয়েই রাজশাহীর ৮৬ হাজার চাষী ও ব্যবসায়ীরা আম ও লিচু বাজারে তুলছেন। রাজশাহীতে লিচু বিক্রি শেষের দিকে । তবে দাম কম থাকায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে চাষীদের।

রাজশাহীতে একটি দুইটি জাতের আম বিক্রি শেষের দিকে হলেও আরও মাসখানেক বাজারে পাওয়া যাবে বিভিন্ন জাতের আম। বলা যায়, রাজশাহীতে জমে উঠেছে আমের বেচাকেনা। চাষীরাও চাইছেন, ভালো দামে আম বিক্রি করে আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে। সরকারিভাবেও আমচাষীদের সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চালু করা হয়েছে স্বল্প ভাড়ায় স্পেশাল ম্যাঙ্গো ট্রেন সার্ভিস ও নিখরচায় ট্রাক সার্ভিস। যাতে করে চাষীরা অল্প খরচে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে আম বিক্রি করে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে।

রাজশাহীর বানেশ্বর হাট দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম আম বেচাকেনার মোকাম। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এই হাটে এসে আম কেনেন। আম কিনে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়। এছাড়া রাজশাহীর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও আম বেচাকেনা হচ্ছে। প্রচুর আম বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমেও।

বানেশ্বর বাজার ঘুরে এবং আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা দেখা গেছে, বাজারে গোপালভোগ জাতের আম শেষের দিকে। বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে লখনা ও গুটি আম। অল্প পরিমাণে উঠতে শুরু হয়েছে হিমসাগর ও ল্যাংড়া।

আমচাষীরা বলছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম পুরোদমে বাজারে বিক্রি হবে। বাজারে মানভেদে গোপালভোগ আম বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকা থেকে ২৪০০ টাকা মণ হিসেবে। মানভেদে লখনা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা মণ, হিমসাগর বা খিরসাপাত ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা,ল্যাংড়া ১৬০০ টাকা এবং গুটি আম ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ হিসেবে।

রাজশাহীর কাটাখালীর আম ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবছর আমের দাম গতবছরের চেয়ে ভালো। ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় চাষীরা লাভবান হবেন। এবছর আম ঝরে গেলেও গোপালভোগ আমের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া গেছে। বুধবার ২০ মণ গোপালভোগ আম বিক্রি করেছি ২১০০ টাকা মণ হিসেবে। গুটি আম ও লখনা আমের দামও ভালো। হিমসাগর, ল্যাংড়া আম পরিপক্ক হতে আরো সপ্তাহখানেক লাগবে। তখন আমের দাম ভালো পাওয়া যাবে।

তবে রাজশাহীর আড়ানীর আমচাষী আলতাফ হোসেন বাদশা বলেন, এবছর আম বিক্রি করে লোকসানে রয়েছি। এখন পর্যন্ত এক হাজার মণ আম বিক্রি করে এক লাখ টাকা লোকসান রয়েছি। আমের চাহিদা কম থাকায় লোকসান হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিবছর আমের মৌসুমে আমি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রতিদিন এক ট্রাক করে আম দিতাম। এখন সেখানে তিন/চার দিন পর এক ট্রাক করে আম যাচ্ছে। এখন লখনা ও হিমসাগরের দাম কিছুটা কম আছে। তবে আশা করছি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরোদমে বাজারে উঠলে এসব আমের দামও ভালো পাওয়া যাবে।

লিচু চাষীরাও বলছেন, দাম ভালো থাকলেও ফলন কম হওয়ায় লোকসানে গুণতে হচ্ছে।

রাজশাহীর বড় বনগ্রাম এলাকার লিচু চাষী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার ২০ বিঘা লিজ নেওয়া ও নিজস্ব ১৫ বিঘা জমিতে লিচু চাষ করেছিলাম। এবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানে অর্ধেক লিচুই ঝরে গেছে। আমাদের এলাকায় ৫ থেকে ৬ কোটি পিস লিচু উৎপাদন হয়। এবার আম্পানে তার অর্ধেক লিচুই ঝরে গেছে। ফলে দাম ভালো পেলেও ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুণতে হয়েছে। আমাদের সব লিচু ঢাকায় হাজারে ১৮০০ টাকা থেকে ২৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুল হক জানান, রাজশাহীতে এবছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ১৫ শতাংশ আম ঝরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ১১০ কোটি টাকা। সে হিসেবে এবছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। তবে গাছে আম সংখ্যায় কম থাকলে আমের আকার বড় হয়। তখন আমের ওজনও বেশি হয়। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কাছাকাছি যাবে। এছাড়া দাম ভালো থাকায় চাষীদের খুব একটা লোকসান হবে না। এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আম গাছ থেকে পাড়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গোপালভোগ আম শেষের দিকে। হয়তোবা বাজারে ৩/৪ দিন আর পাওয়া যেতে পারে। এখন বাজারে অল্প পরিমাণে উঠতে শুরু করেছে খিরসাপাত, হিমসাগর ও লখনা।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে মোট ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়। এবছর রাজশাহীতে লক্ষণভোগ বা লখনা ৬২৭১ হেক্টর, খিরসাপাত ২৬১৭ হেক্টর, ফজলি ২২৬৬ হেক্টর, আশ্বিনা ১৬৭৬ হেক্টর, আম্রপালি ১০৫০ হেক্টর, গোপালভোগ ৫৯৪ হেক্টর এবং বাকিগুলো গুটি আমসহ অন্যান্য জাতের আম উৎপাদন হয়।

লিচুর বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীতে মোট ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদিত হয়। এক একটি লিচু প্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে ৬০ থেকে ৭০ পয়সা। সে হিসেবে বাজারে লিচু দুইশো থেকে ২৪০ টাকা শো হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। তার মানে চাষীদের লাভই হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর সপ্তাহখানেক পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ওঠা শুরু হয়। সেহিসবে আর দুই চারদিন লাগবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে উঠতে। এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের ফলন ভালো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমের দামও ভালো আছে। আশা করছি কৃষকরা এবছর আম বিক্রি করে লাভবান হবেন। আগামি ১৩ জুন থেকে ডাকবিভাগের ট্রাকে করে বিনা ভাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ঢাকায় যাবে। এছাড়া শুক্রবার থেকে স্পেশাল ম্যাঙ্গো ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ঢাকায় পৌঁছানো হবে।

এদিকে সরকারিভাবেও আমচাষীদের সহায়তা করতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুক্রবার বিকেল থেকে চালু হয়েছে স্পেশাল ম্যাঙ্গো ট্রেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কেজিপ্রতি এক টাকা ৩০ পয়সা আর রাজশাহী থেকে কেজিপ্রতি এক টাকা ১৭ পয়সা দরে আমব্যবসায়ী ও চাষীরা প্রতিদিন ২৪০ মেট্রিক টন আম ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com