Logo
শিরেোনাম ::
রোজা রেখে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিল ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি কোম্পানীগঞ্জে পাথর শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা শতামেক ছাত্রলীগের উদ্যোগে টেলিমেডিসিন সেবা চালু মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের নেতা তারেক এর জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ না ফেরার দেশে চলে গেলেন রাজশাহী ১ আসনের এমপি ফারুক চৌধুরীর মা শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি টেম্পুর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ ; আহত ৩ তৃতীয় রমজানেও ছাত্রলীগ এর সেহেরি বিতরন কার্যক্রম অব্যাহত, চলবে মাসব্যাপী কোম্পানীগঞ্জে ১৮০ বোতল ভারতীয় মদ সহ গ্রেফতার ২ জন সিলেটে মোবাইল কোর্টের অভিযান- ১৪ হাজার টাকা জরিমানা প্রবাসী সমাজ কল‍্যাণ পরিষদ মোকামবাড়ী বাজারের উদ্যোগে রামাদ্বান সামগ্রী বিতরণ

সবার উপর মুক্তিযোদ্ধা এবং কুলাঙ্গারের শাস্তি-লেখক: ড.মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী

সংগ্রহীতঃ-অনিন্দ্য বৈদ্য সানি / ৩৩১ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

সবার উপর মুক্তিযোদ্ধা এবং কুলাঙ্গারের শাস্তি-
লেখক: ড.মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী

নেলসন ম্যাণ্ডেলার নিকট সমগ্র পৃথিবীর মানুষ শ্রদ্ধা ও সম্মানে মাথানত। ম্যাণ্ডেলা বেঞ্জামিনের মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাথানত করে। কেন এ ভাবে মাথানত করে দাঁড়িয়ে আছেন প্রশ্ন করা হলে, ম্যাণ্ডেলা বলেছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে কী ভাবে সম্মান জানাতে হয় তা দুনিয়াবাসীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমি মাথানত করে দাঁড়িয়ে আছি। দুনিয়াবাসীকে সে শিক্ষা দিলেও কুলাঙ্গাররা সে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। এই শিক্ষা গ্রহণ করার শক্তি আছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির।

মুক্তিযোদ্ধার সম্মান এত উঁচুস্তরে অবস্থান করে যা কোন কুলাঙ্গারের পক্ষে আত্মস্থ করা সম্ভব নয়।
চণ্ডিদাস বলেছিলেন, ‘শুন হে বন্ধু ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’।/
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তিনি দেখলে হয়তো বলতেন,’শুন হে বন্ধু ভাই / সবার উপরে মুক্তিযোদ্ধা তাহার উপরে নাই’।/

একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেমে একটি একটি জাতীয় পতাকা, একটি সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত, সংসদ, মন্ত্রী পরিষদ, রাষ্ট্র ও সরকারের জন্ম। কোন আইনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ আসেনি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আইনের জন্ম। তাই দেশে দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আইন হয়, অসম্মানে শাস্তির হয় বিধান। কোন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান ব্যক্তিগত অসম্মান নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এটি ভুল নয়, অপরাধ। ভুল ক্ষমার যোগ্য, অপরাধ নয়। এই অপরাধ কেউ ক্ষমা করতে পারে না। শাস্তিযোগ্য।
হাটহাজারীর ছিপাতলী ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার আবদুস সাত্তার ও তাঁর পরিবারকে যে ব্যক্তি অপমান করেছে সে কুলাঙ্গারের শাস্তি যতক্ষণ হবে না ততক্ষণ একাত্তের শানিত চেতনা ধারণকারীদের রক্তক্ষরণ হতেই থাকবে।
শুন কুলাঙ্গারকে বলছি, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে নোবেল বিজয়ী হবে, কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, অস্কার বিজয়ী, হিমালয় – মহাকাশ বিজয়ী, ক্রিকেট বিজয়ী হবে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সেনাপ্রধান, সচিব হবে কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা আর কোনদিন হবে না। বাঙালির অনেক বিজয় হবে কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের ‘মহান বিজয়’-‘র মত কোন বিজয় হবে না। আর কোন ‘বিজয়’ শব্দের পূর্বে ‘মহান’ শব্দটি লেখা হবে না। বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন কী? আমাদের ‘স্বাধীনতা’। এ অর্জন মুক্তিযোদ্ধার। তাই তাঁরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান। যারা তাদের অপমান করে তারা হাজার বছরের নিকৃষ্ট হায়ওয়ান। তাদের বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধা সাত্তারের সন্তানের ধমনিতে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত প্রবাহমান। স্বাধীনতার সময়
অনেক দেশে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল,বাংলাদেশে নয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তাররা মনের তাগিদে দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ শিখরে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করতে গিয়ে ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মোৎসর্গের লাল রক্ত পতপত করে উড়বে জাতীয় পতাকায় অনন্তকাল।
মুক্তিযোদ্ধার জন্য কোন কুলাঙ্গারের সার্টিফিকেট দরকার নেই। তাদের মৃত্যুর পর বিউগল বাজবে, জাতীয় পতাকা দিয়ে তাঁদের মোড়ানো হবে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে কারণ মুক্তিযোদ্ধা-বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ সমার্থক শব্দ। যতই চেষ্টা করুক এই তিনটি শব্দকে কোন কুলাঙ্গার কোনদিন পৃথক করতে পারবে না। তাঁরা অসাধারণ মানুষ। তাঁদের ভুলে যাওয়া মানে বাংলাদেশকে ভুলে যাওয়া। তাঁদের অপমান বাংলাদেশের অপমান। মুক্তিযোদ্ধা মানেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ভালবাসতে হলে একাত্তরকে ভালবাসতে হবে। একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভালবাসতে হবে। না হয় কোনদিন বাংলাদেশকে ভালবাসা যাবে না।
বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, কিছু বাঙালি বিতর্ক জানে না, কুতর্ক জানে। স্বাধীনতা মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিতর্ক নয়, কুতর্ক। কুতর্ক করে কুলাঙ্গার।
মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জিত স্বাধীন দেশে নিঃশ্বাস আলো গ্রহণ করবে, খেয়ে পরে বাঁচবে আবার তাঁদের অপমান করবে, তা কখনো হতে দেওয়া হবে না।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যার জন্মই হয়নি সে প্রকৃত রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া বলে অপমান করেছে। এই কুলাঙ্গার এলাকার অনেক সম্মানিত মানুষের সাথে বেআদবি করার সময় সবাই নিরব দর্শক থাকায় আজ মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানিত করার সাহস পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানের পর আর কিছু বাকি রইলো? আর কোন বিষয়টির উপর আক্রমন করলে আপনারা জেগে উঠবেন?
কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবি ‘মুক্তি’। এই কবিতা এবং ‘মুক্তি’ শব্দটি বঙ্গবন্ধুর খুবই প্রিয় ছিলো। তাই তিনি ৭ই মার্চের ভাষণে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি একবার আর ‘মুক্তি’ শব্দটি পাঁচবার উচ্চারণ করেন। কারণ স্বাধীনতার জন্য স্বাধীনতা নয়, মুক্তির জন্য স্বাধীনতা চাই। স্বাধীন তো ১৯৪৭ সালে একবার হয়েছিলাম কিন্তু মুক্তি মেলেনি। এই স্বাধীনতা মুক্তির জন্য। তাই যারা একাত্তরে যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা স্বাধীনতাযোদ্ধা নয়, মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা একাত্তরে অর্জিত কিন্তু মুক্তির সংগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম এখনো চলমান। তাঁদের ভিশন ছিল। এই সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানকারীকে চরম শাস্তিই প্রদান হোক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শপথ। তাদের জুতাপেটা করা হোক।
এগিয়ে আসুন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ। সব কিছুতে রাজনীতি খুঁজবেন না। পছন্দ অপছন্দ থাকবে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ – মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিভক্তি নয়, ঐক্য হোন। কারণ একাত্তরের শানিত চেতনা আপনাদের শিরায় শিরায় বহমান। আর যদি কুলাঙ্গারদের প্রশ্রয় দেন (যদিও কেউ দিচ্ছে না) তাহলে ইতিহাসের দায় এড়াতে পারবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
567891011
19202122232425
2627282930  
       
15161718192021
293031    
       
1234567
       
       
    123
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
282930    
       
    123
45678910
       
সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:১৭
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:২৪
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২২
  • ১২:০২
  • ৪:৩০
  • ৬:২৪
  • ৭:৪০
  • ৫:৩৭
Theme Created By ThemesDealer.Com