Logo
শিরেোনাম ::
ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ হোসাইনের সহায়তায় হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরন আই.ই.বি ও ম্যাক্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুরে ৬০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান চট্টগ্রামে অক্সিজেন ও এম্বুলেন্স সেবা দিয়ে করোনা রোগীর পাশে ছাত্রলীগ ডুয়েটের প্রো-ভিসি পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রশিদ চট্টগ্রামে করোনা রোগীর পাশে ছাত্রলীগ উপজেলা চেয়ারম্যানের আয়োজনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন পালন গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজের নেতৃত্বে অভিনব প্রতারক গ্রেফতার রাজশাহীর তানোরে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যাস্ত চাষীরা রাজশাহীতে নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক

পাঁচ দফা দাবী সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের

বিপ্লব চন্দ্র দেব , সিলেট দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি / ১০২ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সিলেট দঃ সুরমা প্রতিনিধিঃ করোনার কারনে সম্পূর্ণ বিশ্বে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজমান । বাংলাদেশে ও একই অবস্থা। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হচ্ছে সব ছাত্র-ছাত্রীদের। এই অবস্থায় বিভিন্ন সমস্যায় কবলিত হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পাচ দফা দাবি জানায়।
এই দাবি গুলি ছাত্রছাত্রীদের মত করে নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের আগ্রাসনে পুরো বিশ্ব এখন এক সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। আমাদের দেশেও এর ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ কারফিউ জারি, লকডাউন ও শারিরিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণ-সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করছে। ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশের বেসরকারি চাকুরীজীবী ও প্রবাস নির্ভর পরিবারগুলোর উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় এই পরিস্থিতি চলমান থাকার ফলে কমে আসছে সঞ্চয়ও। অপর দিকে খারাপ পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় আমাদের ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। আর যদি আগামীতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় তবুও আমাদের বর্তমান অবস্থা থেকে হুট করে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাদের নিকট কিছু আবেদন জানাচ্ছি –
১.
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বকেয়া বেতন প্রদানের জন্য আমাদেরকে কোনো রকম চাপ প্রয়োগ করবেন না। বর্তমান অবস্থায় কোন প্রকার আংশিক ছাড়েও আমরা বেতন পরিশোধে সক্ষম নই। তবে যারা তা পরিশোধে সক্ষম তারা নিজ উদ্যোগেই তা পরিশোধ করবে।

২.
আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এপ্রিল মাসের বেতন মওকুফ করুন। উপার্জন বন্ধ থাকার কারনে আমাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং এভাবে চলতে থাকলে তা আরো করুন হতে পারে। তাই আমরা এপ্রিল মাসের বেতন পুরোপুরি মওকুফের আবেদন জানাচ্ছি। বাস ভাড়ার বিষয়ে মার্চ মাসে ৫০% এবং এপ্রিল মাসের ১০০% মওকুফ করার সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

৩.
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম চালু রাখার জন্য চেষ্টা চলছে যা একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আমাদের দেশে ইন্টারনেটের বেহাল দশা এবং মোবাইল সিম অপারেটরগুলোর ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্যের কারনে আমাদের অধিকাংশের পক্ষে ইন্টারনেট ভিত্তিক শিক্ষাক্রমে সুষ্ঠু ভাবে অংশগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে যারা শহরের বাইরে রয়েছেন তাদের জন্য এ সমস্যা আরো প্রবল। এছাড়া লোডশেডিং-এর সমস্যাও রয়েছে। তাই অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষাক্রম আমাদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। ইতিমধ্যে আমাদের অধিকাংশের ৮০% নম্বরের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। যে ২০% বাকি আছে তা Assignment-এর মাধ্যমে শেষ করতে আমরা ইচ্ছুক। এক্ষেত্র কোন নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইনে উপস্থিত হয়ে কোন প্রকার ক্লাস করা বা পরীক্ষা দিয়ে আমরা ইচ্ছুক না। তাই এ বিষয়ে Course Teachers-গণ ছাত্রছাত্রীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এক্ষেত্রে যদি ১জন শিক্ষার্থীরও অংশগ্রহণে কোন সমস্যা থাকে তবে শিক্ষককে তা বিবেচনা করার অনুরোধ থাকবে। এরপরেও কেউ অনলাইনে অংশগ্রহণে সক্ষম না হলে আলোচনা সাপেক্ষে ইতিমধ্যে গৃহীত ৮০% নম্বরকে ১০০%-এ রুপান্তর করতে পারেন।

৪.
আমাদের বিগত সেমিস্টার এখনো চলমান। পরবর্তী সেমিস্টার কবে শুরু হবে তার কোন স্পষ্ট ধারণা আমরা এখনো পাইনি। কিন্তু আমাদের সংকট হুট করে সমাধান হওয়ার মতো কিছু নয়, তাই পরবর্তী সেমিস্টার (Summer-2020) যখন শুরু হবে (on campus) তখন আমাদের কিছু আবেদন থাকবে। যেমন –
(ক) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যারা নতুন সেমিস্টারে ভর্তি হবে তাদের সেমিস্টার ফি’তে ছাড় দেয়ার ব্যবস্থা করা।
(খ) যারা ভর্তি হতে পারবে না তাদেরকে পরবর্তীতে ভর্তির সময় Re-admission Fee মওকুফ করা।
[পরবর্তী সেমিস্টার যদি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে তাতে আমাদের অধিকাংশের সুষ্ঠু অংশগ্রহন সম্ভব হবে না।]

আমাদের উপরোক্ত আবেদন সমূহ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সদয় হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। অতীত সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের পাশে পেয়েছি। তাই আমরা বিশ্বাস করি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীবান্ধব এবং এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের পাশে দাঁড়াবে। অন্যথায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষে এমতাবস্থায় শিক্ষাক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং একটি বড় অংশ সাময়িক ভাবে ঝরে পড়বে। তাই আমাদের এই আবেদনে পক্ষে আমরা আপনাদের সহযোগিতা এবং পরামর্শ কামনা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com