Logo

নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নিজের প্রতি কঠোর হোন

এস এম আজহার সিদ্দিক, চট্টগ্রাম চকবাজার প্রতিনিধি। / ২২৯ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

লেখকঃ প্রকৌশলী এস এম আজাহার সিদ্দিকী।
সংগঠক,চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।

আপনি যখন কোনও ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন, আপনাকে প্রায়ই অন্যদের সাথে কঠোর আচরণ করতে হবে।কিন্তু অনেক সময়েই অনেকে এটা পেরে ওঠেন না ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনও কারনে। এক্ষেত্রে দায়িত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত আবেগ বেশি প্রশ্রয় পায়। এসব ক্ষেত্রে অন্যের ওপর কঠোর হওয়ার আগে নিজের ওপর কঠোর হওয়াটা জরুরী।
সম্পর্ক বা আবেগের আগে দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যখন নিজের প্রতি কঠোর হবেন, তখন প্রয়োজনে তা অন্যদের ওপরও প্রয়োগ করতে পারবেন। এবং সঠিক ও কার্যকরী নেতৃত্বের জন্য এটা খুবই জরুরী। দায়িত্বের ক্ষেত্রে কে কি মনে করবে, কে কতটা মন খারাপ করবে – এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। নিজের ভেতর থেকে যদি সাড়া না আসে, মনকে চুপ করিয়ে রাখতে হবে।অন্যদের নেতৃত্ব দেয়ার আগে, নিজেই নিজেকে নেতৃত্ব দিতে শিখুন।

প্রধানত তিনটি কারনে নেতারা কঠোর হতে পারেন না:

◼অভিজ্ঞতার অভাব:

অনেক প্রতিষ্ঠানেই উচ্চ পদস্থদের চেয়ে নিন্ম পদস্থরা বেশি অভিজ্ঞ হন। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ে নতুন একজন উচ্চ পদস্থ নিজের প্রভাব ফেলতে পারেন না। কারন তাদের মনে ভয় থাকে, হয়তো কোনও ভুল হচ্ছে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, যোগ্যতা দিয়েই আপনি উচ্চ পদে বসেছেন। আপনার যদি মনে হয় আপনার অভিজ্ঞতার অভাব, তাহলে সেই বিষয়ে একটু সময় দিয়ে, পড়াশুনা করে নিজের জ্ঞান বাড়িয়ে নিতে পারেন। এতে করে নিজের প্রভাব বিস্তার করার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস আপনার মাঝে চলে আসবে।

◼অন্যরা কি ভাববে,তার ভয়:

যা এখনও ঘটেনি, তা নিয়ে দু:শ্চিন্তা করে অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। একজন নেতাও সবাইকে খুশি রেখে চলতে পারে না। আপনার কোনও সিদ্ধান্তই শতভাগ মানুষকে খুশি করতে পারবে না। কাজেই কে কি ভাবলো – তা নিয়ে কোনও চিন্তা করবেন না। যুক্তি আর প্রয়োজনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন। ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে সব সময়ে এগিয়ে রাখুন।

◼অতীত ভুলের কারনে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাওয়া:

কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তাতে অটল থাকার জন্য আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের আত্মবিশ্বাসই অতীত কোনও ভুলের কারনে টলে যায়। বর্তমানে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দোটানায় পড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে মনে রাখবেন, অতীত কখনও ফিরে আসবে না। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে তাকে কাজে লাগান, কিন্তু অতীত যেন আপনাকে থামিয়ে না দেয়। আজকের পরিস্থিতিকে হারিয়ে যাওয়া অতীতের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না।

দিন শেষে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে জড়িত মানুষগুলোর ভালোর জন্যই কাজ করছেন – এই কথা সব সময়ে মাথায় রাখতে হবে।

আপনি যখন নিজের প্রতি কঠোর হবেন, অন্যদের চ্যালেঞ্জ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।মানুষকে যখন চ্যালেঞ্জ করা হয়, তখন তারা কাজে মনযোগী হয়। সত্যিকার কাজের মানুষেরা সমস্যার সমাধান করতে পারলে খুশি হয়। আপনার টিমে যদি এমন কেউ থাকে, বাস্তব কারনে যাদের প্রতি কঠোর হলে তারা কষ্ট পায় – সত্যি বলতে, আপনার এদের দরকারই নেই। এমন মানুষেরা আসলে যে কোনও টিম ও প্রতিষ্ঠানের বোঝা। সত্যিকার কাজের মানুষেরা বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্ন নেতা পছন্দ করে। নরম মানুষকে নয়।

আপনি যদি প্রয়োজনে কঠোর হতে পারেন, তাহলে আপনার টিমের সদস্যরা কষ্ট পাওয়া বা নিরু‌ৎসাহিত হওয়ার বদলে, আপনাকে আরও বেশি সম্মান করবে। যারা করবে না – তাদের বিদায় দিন। এই বিদায় দেয়াটাও কঠিন কাজ। যদি মনে করেন এসব মানুষকে দিয়ে আপনার কাজ হবে না – আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের বিদায় বলে দিন। সত্যিকার নেতা তারাই যারা এমনিতে দয়ালু হলেও, ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজনে নিজের ও অন্যের প্রতি কঠোর হতে পারেন।

তবে এর মানে এই নয় যে আপনি সব সময়ে কাঠখোট্টা হয়ে থাকবেন অথবা অন্যের কোনও কথাই শুনবেন না।সবার কথাই বিবেচনা করুন, পরামর্শ ভালো হলে গ্রহণ করুন। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়া মানে ঢালাও ভাবে সবার সিদ্ধান্ত বাতিল করা নয়। সবার প্রতি সদয় আচরণ করুন। শুধুমাত্র প্রয়োজনের খাতিরেই কঠোর হন। কাউকে না বললেও এমন ভাবে বলুন যেন সে অপমানিত না হয়।যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন। কারন বোঝাতে পারলে সবাই খুশি হয়েই আপনার কথা মেনে নেবে। সফল ভাবে নেতৃত্ব দিতে গেলে এটা খুব জরুরী।
আজকের মত এতটুকুই।
আগামীতে আসব নতুন কিছু নিয়ে।
ধন্যবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com