Logo
শিরেোনাম ::
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৫ তম জন্মদিন পালিত সংগঠক সোহেল আহমেদ একাত্তর ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’র সহ-সভাপতি নির্বাচিত বোয়ালখালীতে ব্যবসায়ী শিবু সেন পরলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন উপলক্ষে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভা মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় বটবৃক্ষের প্রথম ইভেন্ট সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিনকে ইউপি সদস্য সুহেল আহমেদের শুভেচ্ছা শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মানবতার সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছে সাতগাঁও প্রবাসী ফোরাম জাতিসংঘের ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরষ্কার’ অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ডুয়েট উপাচার্যের অভিনন্দন ভোলাগঞ্জ- দয়ার বাজার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ মন্ত্রী ইমরান আহমদ কে এড. মাহফুজুর রহমানের অভিনন্দন

শুভ জন্মজয়ন্তী ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী

কাউছার আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক / ২২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কলকাতা, ১৮৭৭। একটা গাড়ি যাচ্ছিল ফোর্ট উইলিয়ামের পাশ দিয়ে। গাড়িতে সর্বাধিকারী পরিবারের গৃহবধূ হেমলতা দেবী ও তার শিশুপুত্র। ফোর্ট উইলিয়ামের পাশে ‘ক্যালকাটা ফুটবল ক্লাব’-এর মাঠে সাহেব-সেনারা বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে দেখে বছর আটের ছেলেটি গাড়ি থামাতে বলে, এগিয়ে যায় খেলা দেখতে। হঠাৎ বলটি একেবারে তার সামনেই। গোরা সৈন্যদের দেখেও ভয় না-পাওয়া ছেলেটি নিবিষ্ট হয়ে বলটা দেখছিল। ইংরেজদের এক জন বলে ওঠে, ‘কিক ইট!’ হাত থেকে নামিয়ে পায়ে মেরে বলটা ফেরত পাঠায় ছেলেটি। বাঙালির পায়ে সে-ই প্রথম ফুটবল শট। আট বছরের ছেলেটি নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী।
নগেন্দ্রপ্রসাদ ময়দানে গোরা সৈন্যদের ফুটবল খেলা দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি হেয়ার স্কুলে তার সহপাঠীদের সঙ্গে দল গড়ে ফুটবল খেলতে আরম্ভ করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক মিঃ স্ট্যাক নগেন্দ্রপ্রসাদের উৎসাহ দেখে তাকে খেলার শিক্ষা দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াকালীন তিনি ময়দানে অনেকরকম খেলার নেতৃত্ব দিতেন। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলার অদ্বিতীয় সেন্টার ফরওয়ার্ড হিসাবে বিখ্যাত হয়েছিলেন।
ইংরেজ শাসনে বাঙালিকে বারবারই ভীতু, দুর্বল, অলস তকমা দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে নগেন্দ্রপ্রসাদ ছিলেন এক বিদ্রোহ। কৈশোর পার করার আগেই বেশ ক’টি ক্লাব গড়ে তোলেন। ‘বয়েজ ক্লাব’ ভারতের প্রথম ফুটবল সংগঠন। তাঁর হাত ধরেই ঘরের মাঠে প্রথম বাঙালি ক্লাবের তাঁবু পড়ে— ওয়েলিংটন ক্লাব। তিনি এই ক্লাবে ফুটবল, ক্রিকেট, রাগবি, হকি ও টেনিস খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন । তিনি আরো কিছু ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফ্রেন্ডস ক্লাব, হাওড়া স্পোর্টিং ক্লাব, প্রেসিডেন্সি ক্লাব প্রভৃতি। এই সমস্ত ক্লাবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই খেলতে পারত।
সে সময় রাজতন্ত্র বজায় ছিল। বিভিন্ন প্রদেশের রাজারা ইংরেজদের সঙ্গে এই ফুটবল খেলাকে বিনোদন ভেবে নেন বা ইংরেজদের সঙ্গে সমঝোতার এক ক্ষেত্র মনে করেন। তাই নগেন্দ্রপ্রসাদ সমাজের সর্বস্তর থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার স্বপ্ন দেখলেও তা প্রকৃতপক্ষে ছিল ‘বাবু’দের কুক্ষিগত। তবুও সে কালে শোভাবাজার ক্লাব খেলতে নামলে বাঙালি আবেগে ভেসে যেত।
নগেন্দ্রপ্রসাদ বুঝেছিলেন, খালি পায়ে ফুটবল খেললেই হবে না, চাই পরিকাঠামো। তাই ১৮৯২ সালে ‘ক্যালকাটা ফুটবল ক্লাব’, ‘ডালহৌসি’, ‘ন্যাভাল ভলান্টিয়ার্স’, তিন ক্লাবের সঙ্গে আলোচনায় নগেন্দ্রপ্রসাদ ঠিক করেন, সর্বভারতীয় শিল্ড আয়োজন করবেন। এই শিল্ড পরিচালনার জন্য গঠিত হয় ‘ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’। নগেন্দ্রপ্রসাদই সেখানে একমাত্র ভারতীয় প্রতিনিধি। বিদেশ থেকে শিল্ড এলে তা দেখার জন্য উপচে পড়ে বাঙালিরা। ১৮৯৩ সালের শিল্ডে শোভাবাজার ক্লাব একমাত্র ভারতীয় দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। উল্লেখ্য, নগেন্দ্রপ্রসাদ ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন শোভাবাজার ক্লাব। এই ক্লাবের মাধ্যমেই সারা বাংলা জুড়ে ফুটবলকে জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা নেন। হাওড়াতে বামাচরণ কুণ্ডুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেন। সেই অর্থে ভারতে প্রথম ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘ট্রেডস কাপ’। ১৮৮৯ সালে শোভাবাজার অংশগ্রহণ করে। বাংলায় ফুটবল, তাও সাহেব খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে। নগেন্দ্র আর তাঁর দল তখন বাঙালির ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি। বাংলার লাটসাহেবও খেলা দেখতে এসেছিলেন। সাহস, আবেগ থাকলেও পেশাদারিত্বের অভাবে বিদেশের দলগুলোর কাছে হার মানতে হয় প্রথম বছরগুলোয়। কিন্তু ১৮৯২ সালে শক্তিশালী ক্লাব ‘ইস্ট সারে’ কে হারিয়ে দেয় শোভাবাজার। বাঙালি বুঝতে পারে, ইংরেজকে হারানো সম্ভব। অভিনন্দনে ভেসে যান নগেন্দ্র ও তাঁর দল। ১৯১১ সালে মোহনবাগানের শিল্ড জয়ের আগে কোনও বাঙালি ক্লাবের এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
নগেন্দ্রপ্রসাদের কাছে খেলা শুধু বিনোদন নয়, শরীর-মনের শক্তিবৃদ্ধির মাধ্যম ছিল। দুর্বল হলে ইংরেজদের সঙ্গে ফুটবলেও জেতা যাবে না, পাওয়া যাবে না স্বাধীনতাও— এই ছিল তাঁর বিশ্বাস। বিবেকানন্দ স্বয়ং ময়দানে গিয়ে নগেন্দ্রপ্রসাদের খেলা, ইউরোপীয়দের চোখে চোখ রেখে বল সামলানো দেখতে যেতেন। শিকাগো-ফেরত বিবেকানন্দকে নিয়ে যখন কলকাতা আপ্লুত, শোভাবাজার রাজবাড়ির সংবর্ধনাসভায় তিনি নগেন্দ্রপ্রসাদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘‘ওঁর মতো মানুষ, ওই রকম মরদ চাই।’’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com